অশ্রুসিক্ত নয়নে ইউএনও সোহাগ হোসেনকে বিদায় জানালেন আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা

0
520

স্টাফ রিপোর্টার : আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হোসেনকে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় জানালেন আড়াইহাজার উপজেলার খাসেরকান্দী আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দারা। আশ্রয়ন কেন্দ্রটি বঙ্গবন্ধু পল্লী হিসেবে পরিচিত । সোমবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে বিদায় জানানো হয় ।

এই সময় আ্শ্রয়ন প্রকল্পর বাসিন্দা নারী-পুরুষের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। উপজেলাস্থ খাসেরকান্দি আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিটি বাসিন্দার চোখে মুখে ছিল কান্নার রোল। তারা ইউএনও সোহাগ হোসেন কে চারদিক থেকে এমনভাবে ঘিরে ফেলেন যেন তাঁকে যেতে দিতে চাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে পুরো এলাকা জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কবির সেই অমোঘ বাণী- ” যেতে নাহি দিব ! হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায় ।” বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হোসেন কে ফুল দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেরই আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা শিশুরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর কান্না জড়িত কন্ঠে একে একে বক্তব্য রাখেন।


আশ্রয়কেন্দ্রের দলনেতা আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হোসেন, মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান, আড়াইহাজার থানা প্রেসকাবের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ মল্লিক, উপজেলা তরুনলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লোকমান হাসান, মাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সবুজ মোল্লা, শ্রমিকলীগ নেতা শাহপরান, ছাত্রলীগ নেতা আপন শিকারী, শ্রমিকলীগ নেতা নাজমুল হাসান জুয়েল, যুবলীগ নেতা মামুন খান বাতু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহান শিকারী, উপজেলা শেখ রাসেল নেতা সাইদুল ইসলাম সাকু, তরুনলীগ নেতা ছগির আহমেদ ও সাবেক ছাত্রনেতা সোহাগ সোহাগ হোসেন প্রমুখ। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে মাহমুদপুর ইউনিয়নে খাসেরকান্দীতে ৪০টি পরিবারকে থাকার জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পে বরাদ্ধ দেওয়া হয়।

এরপর থেকে তিনি আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের অভিভাবকের মতো দেখা শুনে করে আসছিল। প্রসঙ্গত, নির্বাহী অফিসার মো: সোহাগ হোসেনকে টাঙ্গাইলে বদলী করা হয়েছে। মঙ্গলবার তার শেষ কর্মদিবস। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেন পরপর দুই বার নারায়ণগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হন। ওনার নেতৃত্বে জন্ম ও মৃত্যু সনদ নিবন্ধনে সারা দেশে প্রথম হয়েছিল আড়াইহাজার উপজেলা। তিনি দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে আড়াইহাজারে কর্মরত ছিলেন। তিনি অত্যান্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে জনগণের কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here