আজি গাহিব মালিকের বন্ধুর শান

0
171

পীরজাদা মুহাম্মদ এমদাদুল্লাহ শাজলী: আরবী ১২ মাসের মধ্যে নবম মাসের নাম রমজান বা রামাদান। রমজান হলো বছরের একমাত্র মাস যার নাম কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে। তাছাড়া ও রমজান মাসের ললাটে যেন উদিত হয়েছে পূর্ণিমার চাঁদ। একদিকে এ মাসের নাম কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে । অন্যদিকে মানবতার মুক্তির সনদ তথা মানব জাতির পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা কুরআন মাজিদ ও নাজিল হয়েছে এ মাসে। একইভাবে রমজান মাসেই আল্লাহর নূরের প্রথম তাজাল্লী নবী করিম (সা:) এর অন্তরে প্রবেশ করে। দয়াময় আল্লাহ করুনার পরবশে মানব জাতির হেদায়াতের জন্য রমজান মাসে কুরআন নাজিল করে এহসান বখশিশ করেছেন আমাদের প্রতি। যার এহসানের কোন বদলা হয়না , যার বখশিশের বিনীময় হয় না। তাই মুনিবের নিকট শুকুর গুজার করে বিনয়ের সঙ্গে মন উজাড় করে অন্তরের অন্তস্থল থেকে বলছি ঃ- হে আল্লাহ! তুমি চিরস্থায়ী , চিরন্তর, , তোমার শেষ নাই, বিনাস নাই, তুমি কারো মুখোপক্ষও নন, তুমি অদ্বিতীয়, পুতঃ পবিত্র, পরাক্রমশালী, বিজয়ী, সর্বশক্তিমান, ইজ্জতের অধিকারী, বিজয়ের অধিকারী, প্রকাশ্য ও গোপন রাজত্বের অধিকারী, চিরঞ্জীব , মৃত্যুহীন, পবিত্র, উঁচু শান শওকাত ওয়ালা, উন্নত তোমার মরতবা তুমিই তুমি, তুমি আমাদের প্রতিপালক। তুমি পবিত্র স্বীয় গুনাবলীতে, তোমাকেই ভয় করি। হে শ্রেষ্ঠ! হে বড় ! হে ক্ষমতাশীল ! হে শক্তিশালী ! তুমি বরকতময়, তুমি মহান, মহা জ্ঞানী, পবিত্র, তুমি শ্রেষ্ঠতম। হে আল্লাহ! তুমি আসমান জমিনের সৃষ্টিকারী , গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞানের অধিকারী, অতীব দয়াবান, চির ভাস্বর, চির প্রতিষ্ঠিত, চির অম্লান, অত্যন্ত বড় মেহের বান, অধিকতর নেয়ামত দানকারী, কবর থেকে মৃত ব্যক্তিকে পুনরুথ্যানকারী, দান এবং বখশিশ ওয়ালা। হে বুজ্গীওয়ালা! তোমার নিকট চাই ; হে সকল নূরের নূর, তোমার নিকটই চাই-তুমি সকল যুগ ও কালের পূর্বে , তুমি চিরস্থায়ী , তুমি চিরন্তর, তোমার শেষ নাই, তোমার বিনাশ নাই, তুমি পরাক্রমশালী বিজয়ী , তুমি লাতীফ-সুক্ষ মেহেরবান।
রমজান মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে বলেই রমজান সৌভাগ্যবান। কুরআন গতানুগতিক কোন গ্রন্থ বা ধর্ম গ্রন্থের নাম নয় । বরং ব্যবহারিক অর্থে কুরআন হলো ঐ মহাগ্রন্থ যা তিনি তার প্রিয় হাবীব ও রাসূল, মুহাম্মদ (সা:) এর প্রতি নাজিল করেছেন ।
এর বৈশিষ্ট্য হলো- (১) কুরআন বহু আয়াত ও সুরা সমূহের সমষ্টি (২) পূর্ববর্তী নবীদের উপর অবতীর্ণ কিতাব ও সহিফা সমূহে শিক্ষনীয় বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সারাংশ। (৩) পূর্ববর্তী উম্মতগণের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ অবস্থা ও ঘটনাবলী , আদেশ নিষেধ অঙ্গীকার Ñ সতর্কীকরণ বিষয় সমূহের সন্নিবেশিত রূপ। (৪) কুরআন জ্ঞান বিজ্ঞানের একটি শ্রেষ্ঠ সংকলন । গোটা কুরআনে ৬৬ বার আল্লাহ তায়ালা “কুরআন” শব্দটি উল্লেখ করেছেন এবং কুরআনকে ৪টি নামে সন্বোধন করেছেন। এক-আল কুরআন দুই- আল ফুরকান তিন-আল কিতাব এবং চার- আয যিকির । মহা তাৎপর্যপূর্ণ ও ভাব গাম্ভীর্য মন্ডিত আল-কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন- “যদি আমি এ কুরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহর ভয়ে বিদীর্ন হয়ে গেছে। (সুরা হাশর আয়াত-২১)
দয়ার পরবশে, ভাল বাসার খাতিরে, বন্ধুর প্রেমে মুগ্ধ হয়ে মাওলায়ে কারিম তার মহিমা মন্ডিত কুরআনকে নাজিল করেছেন – খাতামুন নাবিয়্যিন, সাইয়্যেদুল মুরসালীন , ইমামুল মোত্তাকীন, রাসুলু- রাব্বীল আলামিন, মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর উপর । যিনি সুসংবাদ দাতা, সত্যের আহবানকারী, দীপ্তিমান প্রদীপ, যার মর্তবা সর্বোচ্চ, যার তা’জীম ও ভক্তি করা মুমিনের ইবাদাত। যিনি কেয়ামতের কঠিন দিনে সমগ্র বিশ্ব সৃষ্টির জন্য সুপারিশকারী. মাকামে মাহমুদ ও হাউজে কাউসারের অধিকারী , জামালিয়াত ও কামালিয়াতে যার মাকাম সকলের উর্দ্ধে।
রাসূলের উসিলায় কুরআনের অধিকারী হওয়ার সৌভাগ্য- অর্জন করায় যুগ জনমের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই মালিকের মহান দরবারে। ভক্তি আর সেজদার সকল নজরানা পেশ করি মুমিনের কদমে।
হৃদয়ের গভীর থেকে মন উজাড় করা, প্রান ভরা দুরুদ ও সালাম জানাই হাবীবে দোজাঁহার প্রতি। যিনি সব নবীদের মধ্যে উত্তম। পছন্দীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোত্তম , আওলিয়াদের ইমাম, খাতিমুন আম্বিয়া , রাসুলদের স্বাক্ষী, গুনাহগারদের সুপারিশকারী, আদম সন্তানদের সর্দার, সুসংবাদ দাতা, ভয় প্রদর্শক , আলোকময় প্রদীপ, আমানতদার, সত্যকে প্রকাশকারী, সরল পথের দিশারী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা:)্ এর প্রতি।
যিনি —– প্রতিভাবান; বেহেস্তের কক্ষ ও আলীশান বালা খানার অধিকারী , কৃতজ্ঞ অন্তরের অধিকারী , বিজয়ী সৈন্য বাহিনীর অধিকারী, হুর গিলমানের অধিকারী, পতাকার অধিকারী , সৌন্দর্য্যরে অধিকারী, হাওজে কাউছারের অধিকারী, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কারী, সত্যবাদী নবী, যার কাছে রয়েছে খুশী, রৌশনী এবং নূর। দান খয়রাত করা, অঙ্গীকার রক্ষা করা, নেক কাজে আকৃষ্ট ও উৎসাহিত করা যার বৈশিষ্ট্য, যার পথ অত্যন্ত সুস্পষ্ট , যিনি মাখলুককে নছিহত করেছেন, ইসলামকে মশহুর করেছেন। মূর্তি গুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করেছেন, শরীয়তের আহকামকে প্রকাশ করেছেন , মানুষকে অবৈধ কাজ থেকে বিরত রেখেছেন। তাঁর দানের মোকাবেলায় মেঘমালা এবং সমুদ্র পর্যন্ত হার মেনেছে।
মহান আল্লাহ রাসূলের (সা.) মর্যাদা ও সম্মানকে অতি উঁচু মাকামে স্থান দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন- “হে রাসূল! আমি আপনার খ্যাতিকে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছি।” (সুরা ইনশিয়াহ, আয়াত-৪)
নবীয়ে আরাবী কুরাইশ হাশেমী বংশীয় মক্কার অধিবাসী, তেহামী সুন্দর চেহারা,সমতল যার গন্ডদ্বয়, যিনি সুরমাওয়ালা চক্ষু , সালসাবিলের অধিকারী, কথাবার্তা সুস্পষ্ট, ভাষা অলংকার পূর্ণ, ঈমানের দিক থেকে সুদৃঢ় , মর্যাদা সর্বোচ্চ, কথাবার্তা মিষ্টি, অঙ্গীকার রক্ষা করা যার বৈশিষ্ট্য , বংশের দিক থেকে তিনি অতি উচ্চ।
রহমতের নবী আল্লাহর নাজিলকৃত কুরআন প্রচার করেছেন মক্কা-মদিনার ঘরে ঘরে, মানবতার দুয়ারে দুয়ারে। যিনি রহমতের নবী, উম্মতের শাফায়াত কারী, দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূতকারী, কুফরের অন্ধকার দূরীভূতকারী, নেয়ামত দানকারী, রহমতের প্রতীক, হাওজে কাউসারের মালিক, মাকামে মাহমুদের মালিক।
যিনি সামনে ও পিছনে সমান দেখতে পান, যার দন্ত মোবারকের আহার্য্য বস্তু তছবিহ পাঠ করেছে, যার বিরহ প্রেমে “ উস্তোয়ানায়ে হান্নানাহ” কেঁদেছে, অশ্রু বর্ষন করছে মরা বৃক্ষ ।
অগনিত দূরুদ ও সালাম জানাই এমন দয়ায় নবীর (সাঃ) প্রতি।
মানবতার মুক্তির সনদ আল-কুরআন আমরা পেয়েছি মরুর দুলাল, আমেনার নয়ন মনি, নবীয়ে আরাবী , রাহমাতুললিল আলামিন এর উছিলায় । যিনি আল্লাহর নূরের সমুদ্র, রহস্য সমূহের খনি, দলিলের মুখপাত্র, ¯্রষ্টার রাজত্বের তিনি হলেন দুলহা, তার দরবারের ইমাম , সৃষ্টির সৌন্দর্য, রহমতের ভান্ডার, শরীয়তের পন্থা, তাওহীদের স্বাদ গ্রহনকারী, সমগ্র সৃষ্টি জগতের নয়নমনি, যার নূর সকলের পূর্বে, যার আবির্ভাব সকলের জন্য রহমত, যার অন্তরকে তুমি পরিপূর্ন করে দিয়েছো তোমার জামাল এবং সৌন্দর্য দ্বারা। তাই তিনি হয়েছেন আনন্দিত , সাহায্য লাভে হয়েছেন ধন্য , হয়েছেন সকলকাম।
হে স¤্রাটের স¤্রাট। অগণিত নবী রাসূল গণের মধ্যে থেকে তুমি তোমার পিয়ারা হাবীব মুহাম্মাদুর রাসূলল্লাহ (সা:) কে কোরআন নাজিলের জন্য মনোনীত করেছো , তাই শর্তহীনভাবে, প্রশ্নাতীত মনে সেজদা জানাই তোমার পাক কদমে। বিনয়ের সঙ্গে বলি ঃ Ñ হে আল্লাহ! তুমি এমন নবীর প্রতি কুরআন নাজিল করছো- যিনি তোমর সৃষ্টিজগতের মধ্যে সম্মানিত, আসমানের প্রদীপ, তোমার সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যত লোক দন্ডয়মান হয়েছেন তন্মধ্যে তিনি আফজাল। তোমার দ্বীনের রশিকে মজবুতভাবে আঁকড়িয়ে ধরার জন্য আহবান কারীদের মধ্যে তিনি মহান, তোমার নবীদের মধ্যে সর্বশেষ নবী ও রাসূল । সরল পথের হেদায়েতের জন্য জমিনে সকল প্রান্তরের , সকল নগরের প্রদীপ । যিনি হুকুম ও হেকমতের নবী, অত্যন্ত জলন্ত প্রদীপ, উত্তম চরিত্র মাধুর্য্যরে বৈশিষ্ট্যর অধিকারী।
মাওলায়ে কারিম কুরআন মাজিদে এরশাদ করেন “আল্লাহ নবীর প্রতি দুরুদ পাঠ করেন এবং তার ফেরেস্তাগণও নবীর প্রতি দুরুদ পাঠ করেন। হে মুমিন গণ! তোমরাও নবীর জন্য দুরুদ পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।” (সুরা আহয়াব আয়াত-৫৬)
কুরআনের আয়াতের মর্ম মোতাবেক হাবিবে দোঁজাহার (সাঃ) প্রদি দুরুদ ও যথাযথভাবে সালাম জানানো একান্ত প্রয়োজন।
হে নিরাশার আশা! সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যত বালু কণা তুমি সৃষ্টি করেছো, রোজ কিয়ামত পর্যন্ত আরো যা সৃষ্টি করবে সে পরিমানের চেয়ে ও শতগুন বেশী দুরুদ ও সালাম জানাই তোমার হাবিবের (সাঃ) প্রতি । হে আমাদের মুনিব! সৃষ্টির শুরু হতে আজ পর্যন্ত যত বৃক্ষ,লতা-পাতা, গাছ-গাছালি তুমি সৃষ্টি করেছো, রোজ কিয়ামত পর্যন্ত আরো যত সৃষ্টি করবে, সে পরিমানের চেয়েও হাজার গুন বেশী দুরুদ ও সালাম জানাই তোমার বন্ধুর (সাঃ) পাক কদমে।
হে স¤্রাটের স¤্রাট! দুনিয়া সৃষ্টির প্রথম দিন হতে আজ পর্যন্ত যত বৃষ্টির ফোটা জমিনে পড়েছে, পড়তেছে, কিয়ামত পর্যন্ত পড়বে তার চেয়ে ও লক্ষগুণ বেশী দুরুদ ও সালাম জানাই মদিনার রওজায়ে আনোয়ারে শায়িত তোমার হাবিবের (সাঃ) প্রতি।
হে জীবনের মালিক! সৃষ্টির শুরু হতে আজ পর্যন্ত যত বাতাস বয়ে গেছে, যত ডাল পাতা গুলোকে নাড়া দিয়েছে- গাছ,পাতা, ফল প্রভৃতি যতকিছু যতবার দোলা লেগেছে, কেয়ামত পর্যন্ত দোলা লাগবে তার চেয়ে কোটিগুন বেশী দুরুদ ও সালাম জানাই উম্মতের দরদী কামলিওয়ালা নবীর (সাঃ) প্রতি।
হে আধার রাতের মালিক! তোমার সাতটি মহাসমুদ্রের মধ্যে তুমি যা কিছু সৃষ্টি করেছো। যার এলেম তোমাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে নেই, আর যা তুমি কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টি করবে, এ সমুদ্র সমূহে এ সবের সংখ্যা চেয়েও লক্ষ কোটি গুন বেশি দুরুদ ও সালাম জানাই ইয়াতিম নবীর (সাঃ) প্রতি।
হে ভিক্ষুকের খোদা! সৃষ্টির প্রথমদিন হতে আজ পর্যন্ত যত পাখি উড্ডয়নের সময় তার ডানা মেলেছে , যত ডানা মেলতেছে , কিয়ামত পর্যন্ত যত পাখি ডানা মেলবে সেই সংখ্যার চেয়েও বহু বহু গুন বেশি দুরুদ ও সালাম জানাই মরুর দুলালের (সাঃ) প্রতি।
হে মালিক ! আমাদের দুরুদ ও সালাম রাসূলের (সাঃ) রওজা মোবারকে পৌছে দাও। আমিন।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসে বুকভরা আশা প্রাণ ভরা ভালবাসা নিয়ে মুনিবের নিকট গোলামের একান্ত
ফরিয়াদ ও আর্তিঃ Ñ হে আল্লাহ ! আমাদেরকে তোমার প্রেমিকদের অনুর্ভুক্ত কর, তোমার নৈকট্যলাভকারী আশিকীনদের মধ্যে শামিল কর, রাসূলের সুন্নাতের অনুসরণে জীবন যাপন করা তৌফিক দান কর। তার ধর্ম অবলম্বনে আমাদেরকে মৃত্যুমুখে পতিতকর , তার শাফায়াত লাভকারীদের দলভুক্ত কর, হাউজে কাওসারের পিয়ালা নসীব কর, রাসূলের (সাঃ) চেহারা মোবারকের পরিচয় লাভ করার তৌফিক দিও। হে আমাদের প্রতি পালক ! আমরা তোমার প্রিয় নবীর (সাঃ) সাথে সম্পর্ক রাখি, তাই আমাদেরকে দূরে ডেলে দিওনা । আর তোমার দুয়ারেই আমরা দন্ডায়মান তাই আমাদেরকে বহিষ্কার করো না। তোমার নিকট প্রার্থনা করি আমাদেরকে মাহরুম করোনা । এ কথিকার লেখক,পাঠক, প্রকাশক, সম্পাদক,কলা-কৌশলী , সংশ্লিষ্ট সবাইকে কুরআন, রমজান তথা সিয়াম সাধনার বরকতে দোজাহানের কামিয়াবী নসীব করুন্ আমিন!!
লেখক : অলিয়ে কামেল মাওলানা আবদুল জব্বার
চিশ্তী শাজলী (রহঃ) এর তৃতীয় সন্তান ।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here