আড়াইহাজারের ডাঃ রোরহান উদ্দিন বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ১৮৩ তম স্থান অধিকার

0
775

মাসুম বিল্লাহ : অনেকেই স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন স্বপ্নেই রয়ে যায়। স্বপ্নকে যিনি বাস্তবায়ন করতে পারেন তিনিই প্রকৃত বীর। বোরহান উদ্দিন স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বড় ডাক্তার হবার। তিনি আজ ডাক্তার বোরহান উদ্দিন। আড়াইহাজারের কৃতি সন্তান বোরহান উদ্দিন স্বপ্ন জয়ের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন। কঠোর অধ্যাবসায় ছাড়া স্বপ্নকে ধরতে পেরেছে কে। একেই বলে কঠোর অধ্যাবসায়। কৃষকের ছেলে বোরহান উদ্দিন। অনেক কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে ডাক্তার হয়েছেন। এবার তিনি আড়াইহাজারবাসীর গৌরব আরো বাড়িয়ে দিলেন বিসিএস পরীক্ষায় পাস করে। আড়াইহাজারের এই কৃতি সন্তান সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর জীবনের লক্ষ্য চিকিৎসক হিসেবে দেশের মানুষের সেবা করা।
বিসিএস পরীক্ষায় ১৮৩ তম স্থান অধিকার করেছেন ডা. বোরহান উদ্দিন। তিনি আড়াইহাজারের মেঘনা তীরবর্তী বিশনন্দী ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের মোঃ মিন্নত আলীর ছেলে। পিতা কৃষিজীবি। মাতা মোসাঃ কুলসুম বেগম একজন গৃহিনী। পরিবারে ৬ ভাই বোন। ৪ বোন বিবাহিত। ছোট ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী।
¯্রােতশ্বিনী মেঘনা পাড়ের ছেলে বোরহান উদ্দিন দারিদ্রতার মধ্যে দিয়েই বড় হয়েছেন। কষ্ট কাকে বলে তা কষ্ট করেই বুঝেছেন। কৈশোরেই বুঝেছেন গ্রামের মানুষগুলো ডাক্তারদের কাছে কতটা অসহায়। মহল্লার হুজুরের পড়া পানি খেয়ে পেটের ব্যাথা দমিয়ে রাখতে রাখতে শেষ পর্যন্ত পেপটিক আলসারে আক্রান্ত হয়ে কত গ্রামবাসী ইহলোক ত্যাগ করেছেন, তার হিসেব কে রাখে ? বংশ পরম্পরায় এ ধারাই চলে এসেছে। গ্রামে অসুখ-বিসুখ হওয়া মানেতো কবিরাজ বৈদ্য। খুব গুরুতর না হলে হাসপাতালে যাওয়া কারো ভাগ্যে জোটে না। সে সময়টা অবশ্য এখন নেই। নব্বই দশক পর্যন্ত সময়টা তেমনই ছিল। গ্রামের মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা তাঁকে পীড়া দিত। বোরহান ছোটবেলাতেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, বড় হয়ে তাঁকে ডাক্তার হতেই হবে। কষ্ট করে পড়ালেখা করেছেন। ক্ষুধার জ্বালাকে হার মানিয়েছেন কখনো কখনো। সকল কষ্ট, দুঃখ-যাতনা ও না পাওয়ার বেদনাকে পরাজিত করতে পেরেছেন বোরহান উদ্দিন। আজ তিনি একজন ডাক্তার। বিসিএস ও পাস করলেন। বিদেশী বড় ডিগ্রীগুলো তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বোরহান আরো বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষকে সেবা দিবেন। এতেই তাঁর আনন্দ।
ডা. বোরহান উদ্দিন প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ৮৮ নং মানিকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০১১ সালে জিপিএ-৫ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন চৈতনকান্দা গোলাম মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। গোল্ডেন জিপিএ-৫ নিয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করেন সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে। এমবিবিএস এর পর রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ২০২০ সালে ইন্টার্ণশিপ কমপ্লিট করেন। ২০০৮ সালে অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে আড়াইহাজার উপজেলায় ১ম স্থান অধিকার করে। তাছাড়া এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য বোর্ড স্কলারশিপ অর্জন করেন।
ছোটবেলা থেকেই বোরহান উদ্দিনের ইচ্ছে ছিল একজন এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার। এ জন্য খুব কষ্ট করে হলেও নিজের পড়াশোনাটা ঠিকমত চালিয়ে গেছেন তিনি। ডাক্তার হওয়ার পেছনে পরিবারের উৎসাহ ছিল। পরিবারের সকলেই তাঁর পাশে ছিল এবং সব সময় উৎসাহ দিতেন।
ডা. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমার এ সফলতার জন্য আমি প্রথমেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট শোকরিয়া আদায় করছি। পাশাপাশি আমার স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, বন্ধুবান্ধব, বড় ছোট ভাইবোন যারা সব সময় আমার পাশে ছিল সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বোরহান উদ্দিন আরো বলেন, আমার অনুপ্রেরণার উৎস হচ্ছেন আমার বাবা আর ছোট ভাই। আমার প্রতি ওদের ছিল অগাদ বিশ্বাস। বাবা সব সময় বলেন, তুমি গরীব মানুষের ডাক্তার হবা, এটা আমি চাই। আমিও কথা দিয়েছি যতদিন বেঁচে থাকবো এদেশের মানুষের সেবা করে যাব ইনশাআল্লাহ।
‘আমি মনে করি সফলতা লাভে অধ্যাবসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের লক্ষ্যটা ঠিক রেখে চেষ্টা চালিয়ে গেলে আল্লাহ আপনাকে সফল করবেনই। যা দরকার তাহলো আমাদের সদিচ্ছা আর চেষ্টা। আমার ইচ্ছা আমি দেশের একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার হয়ে আমার আড়াইহাজারবাসী তথা সারাদেশের মানুষকে সেবা করবো। সবার দোয়া প্রার্থী।
এদিকে, ডা. বোরহান উদ্দিন বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে আড়াইহাজারের সুধীসমাজের লোকজন খুশি হয়েছেন। অনেকের মুখেই প্রশংসা শোনা গেছে। সদরের অনেক শিক্ষাবিদ বলেছেন, বিসিএস পরীক্ষায় আড়াইহাজারের কৃতি সন্তানরা সাফল্যের একটা ধারা সূচনা করেছেন। আগে আড়াইহাজার উপজেলার নাম নেতিবাচক খবরেই বেশি আসতো। সেই দিন বদলেছে। শিক্ষার হার শতভাগ। উচ্চ শিক্ষাতেও সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। ডা. বোরহান উদ্দিনের মত যাঁরা এই ধারাকে সমুন্নত রাখছেন আমরা তাদের জানাই লাল সালাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here