আড়াইহাজারে ভাড়াটিয়া দোকান মালিকরা বিপাকে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

0
442

মাসুম বিল্লাহ: সারাবিশ্বের ন্যায় করোনা ভাইরাস এর ভয়াল থাবা হানা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জেও। এর থেকে রক্ষা পায়নি আড়াইহাজার উপজেলা। এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে উপজেলা প্রশাসনের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও আইএসপিআর কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ জেলা লক ডাউন ঘোষণার পর থেকেই আড়াইহাজার উপজেলার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ঔষধের দোকান ব্যতীত অন্যান্য সকল দোকান বন্ধ আছে।

তবে কিছু কিছু ভাড়াটিয়া দোকান মালিক গোপনে দোকান খোলা রাখার চেষ্টা করছেন। এ কারণে কিছু দোকানদারকে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুবাই প্লাজা, হাবিব মার্কেট , পিংকি সুপার মার্কেট , শাহ জালাল  মার্কেট, রামচন্দ্রদী  বাজার, গোপালদী বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ঔষধের দোকানের পাশাপাশি কিছু কিছু অন্যান্য দোকানে সকাল ১০ টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয, কিছু ক্ষেত্রে সারাদিন খোলা রাখা হয়।

এ বিষয়ে দোকানদারদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, সরকার লকডাউন ঘোষণা করছে এ কারণে তারা দোকান খুলতে পারছে না কিন্তু দোকান মালিকরা তাদেরকে দোকান বন্ধ রাখার কোন নির্দেশনা দেয়নি বরং তারা মাস শেষে ভাড়া নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।

আমরা আছি মহা বিপদে দোকানদারি করে রোজগার করতে পারছি না অন্যদিকে দোকান মালিকদের ভাড়ার চাপ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই দোকানদারি করে আমাদের সংসার চলে দোকান মালিকরা যদি ভাড়া না দিত তাইলে হয়তো কোন মতে আমাদের দিন চলে যেত।

কিন্তু এই নগদ টাকা পরিশোধ করা আমাদের জন্য চাপ হয়ে গিয়েছে এ কারণে বাধ্য হয়ে আমরা কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশ না মেনে গোপনে দোকান খোলা রাখার চেষ্টা করি। যদি প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিত তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আমরা প্রশাসনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধা দেখাবো যদি দোকান মালিকরা আমাদের কাছ থেকে এই বন্ধের সময় কোন ভাড়া না নেই।

 অনুসন্ধানে আরও জানা যায় , দোকান মালিকরা ভাড়াটিয়া দোকানদারদের দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনরুপ স্পষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছে না। কেন দিচ্ছে না এ বিষয়ে তদন্ত করে জানা যায়, যদি তারা দোকান বন্ধ রাখার জন্য বলে তাহলে আর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে দোকান ভাড়া আদায় করতে পারবে না।

এ কারণে তারা দোকান ভাড়াটিয়াদেরকে এ বিষয়ে কিছুই বলছে না। জনৈক দোকান মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, আমি যদি আমার ভাড়াটিয়াকে দোকান বন্ধ রাখার জন্য বলি তাহলে মাস শেষে তার কাছ থেকে আমি ভাড়া চাইতে পারবো না। সে কিভাবে দোকানদারি করল না বন্ধ রাখলো সেটা আমার দেখার বিষয় না। তার নামে দোকান ভাড়া নেওয়া আছে সে মাস গেলে আমাকে ভাড়া পরিশোধ করবে এটাই নিয়ম। অনুসন্ধানে এটা প্রতীয়মান হয় যে দোকান মালিকদের ভাড়ার চাপের কারণে আড়াইহাজারে কিছু কিছু ভাড়াটিয়া দোকানের দোকানিরা দোকান খুলতে বাধ্য হচ্ছে যে কারণে সরকার ঘোষিত জেলার  ডাউন কার্যকর করতে প্রশাসনের বেগ পেতে হচ্ছে।

আর যেই সকল মার্কেট পুরো বন্ধ তারা কিভাবে ভাড়া দিবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ভাড়াটিয়ারা। তারা প্রশাসনের নিকট এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here