এমন যদি হতো দেশের প্রতিটি হাসপাতাল

0
696

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যেত আড়াইহাজার হাসপাতালের মত সব হাসপাতাল হত। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে মুগ্ধ হয়ে এই মন্তব্য করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (পিএএ)। বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কর্তৃপক্ষেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন সরকারের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ সময় তাঁর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন আড়াইহাজারের এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, ইউএনও মোঃ সোহাগ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, এসিল্যান্ড মোঃ উজ্জ্বল হোসেন। বিভাগীয় কমিশনার হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখে ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা’র প্রশংসা করেন।

কি দেখে প্রশংসা করলেন বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়। এই প্রশ্নের উল্টর আড়াইহাজারের প্রতিটি মানুষের জানা। সাধারণ মানুষের মুখের বয়ান, এখনকার হাসপাতালকে মনে হয় ঢাকার কোন বড় মেডিক্যাল। ঝকঝকে, চকচকে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। হাসপাতাল চত্বরে একটি গাছের পাতাও পড়ে থাকে না। ঝাড়ু দিয়ে সাথে সাথে পরিস্কার রাখা হয়। সামনের গেইট অত্যাধুনিক। হাসপাতাল ভবন ঝকঝকে। জরুরী বিভাগ, টিকিট ঘর, লম্বা করিডোর সবই নিখুঁতভাবে পরিচ্ছন্ন। কোথাও একটু ময়লা চোখে পড়ে না। রোগীদের ভিড় নেই। হাসপাতালে আসা মাত্র টিকিট কেটে সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ঔষুধ থাকলে ঔষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। প্রসূতি মায়েরা পাচ্ছেন আধুনিক চিকিৎসা। এই হাসপাতালেই গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ মাতৃত্বের ব্যবস্থা আছে। উপজেলা হাসপাতালটি এখন এক কথায় অত্যাধুনিক হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এর নেপথ্যে যে মানুষটির নিরলস পরিশ্রম কাজ করছে তিনি আর কেউ নন। সকাল ৯ টায় অফিসে আসেন। বের হন ৪ টায়। তিনি ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এমন কাজ পাগল মানুষ অথবা চৌকস কর্মকর্তা ইতিপূর্বে দেখেনি আড়াইহাজার উপজেলাবাসী। তিনি এই অল্প সময়ে বদলে দিয়েছেন সরকারি এই হাসপাতারটিকে। সেবার মান বৃদ্ধি করেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন। শত কাজের মধ্যেও সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। সবার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালের ইতিহাসে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করেন উপজেলার সূধীমহল।

আড়াইহাজার উপজেলার পাশেই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই সরকারি হাসপাতাল দেশের অন্য উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। হাসপাতালটি ঝকঝকে, তকতকে। সেবা নিয়েও এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট। তিনি যোগ দেয়ার ৯ মাসেই এই সরকারি হাসপাতালে পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সহায়তা পেলে দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালেও এই পরিবর্তন আনা সম্ভব। গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার বড় আশ্রয়স্থল উপজেলা হাসপাতাল। হাসপাতাল ফটক দিয়ে ঢোকার সময় একজন প্রহরী চোখে পড়ে। তিনি রিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সবুজ চত্বর ও ফুলবাগানও চোখে পড়ে। হাসপাতালের ভেতরে অন্য কোথাও গাড়ি বা যানবাহন রাখা নিষেধ। পুরো হাসপাতাল ঝকঝকে-তকতকে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার তাঁরা হাসপাতাল ঝাড়ু দেন, টয়লেট পরিষ্কার করেন।

একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। আঞ্জুমান বেগম বলেন, ‘মাস ছয়েক আগে ডায়রিয়ার কারণে ভর্তি হয়েছিলাম। এবার অসুস্থ হওয়ার পর এসে দেখি হাসপাতাল পাল্টে গেছে। হাসপাতাল নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে। বাথরুম পরিষ্কার। অনেক স্বস্তিতে আছি।’

আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ব্যাপক পরিবর্তনের নেপথ্যেও কারণ জানতে কথা হয় আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে যার ভূমিকা সর্বাগ্রে তিনি হলেন ডা. সায়মা আফরোজ ইভা। ৯ মাসের পরিশ্রম দিয়ে তিনি এই হাসপাতালটিকে পাল্টে দিয়েছেন। আড়াইহাজারের প্রায় ৩১৫টি গ্রামের সাধারণ দরিদ্র মানুষরা এখন এই হাসপাতালে স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসা নিতে আসেন। মজিবুর বলেন, ডা. ইভা স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সহধর্মিণী হলেও তিনি কখনই সেই পরিচয়টিকে তার পেশায় টেনে আনেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা জানান, আমি শুধু আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বটুকুই পালন করেছি। এর বেশি কিছু না। তবে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়ে যখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য, আমার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করেন তখন মনে হয় এই পেশাটা স্বার্থক হয়েছে।

 

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যেত আড়াইহাজার হাসপাতালের মত সব হাসপাতাল হত। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে মুগ্ধ হয়ে এই মন্তব্য করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (পিএএ)। বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কর্তৃপক্ষেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন সরকারের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ সময় তাঁর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন আড়াইহাজারের এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, ইউএনও মোঃ সোহাগ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, এসিল্যান্ড মোঃ উজ্জ্বল হোসেন। বিভাগীয় কমিশনার হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখে ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা’র প্রশংসা করেন।

কি দেখে প্রশংসা করলেন বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়। এই প্রশ্নের উল্টর আড়াইহাজারের প্রতিটি মানুষের জানা। সাধারণ মানুষের মুখের বয়ান, এখনকার হাসপাতালকে মনে হয় ঢাকার কোন বড় মেডিক্যাল। ঝকঝকে, চকচকে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। হাসপাতাল চত্বরে একটি গাছের পাতাও পড়ে থাকে না। ঝাড়ু দিয়ে সাথে সাথে পরিস্কার রাখা হয়। সামনের গেইট অত্যাধুনিক। হাসপাতাল ভবন ঝকঝকে। জরুরী বিভাগ, টিকিট ঘর, লম্বা করিডোর সবই নিখুঁতভাবে পরিচ্ছন্ন। কোথাও একটু ময়লা চোখে পড়ে না। রোগীদের ভিড় নেই। হাসপাতালে আসা মাত্র টিকিট কেটে সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ঔষুধ থাকলে ঔষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। প্রসূতি মায়েরা পাচ্ছেন আধুনিক চিকিৎসা। এই হাসপাতালেই গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ মাতৃত্বের ব্যবস্থা আছে। উপজেলা হাসপাতালটি এখন এক কথায় অত্যাধুনিক হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এর নেপথ্যে যে মানুষটির নিরলস পরিশ্রম কাজ করছে তিনি আর কেউ নন। সকাল ৯ টায় অফিসে আসেন। বের হন ৪ টায়। তিনি ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এমন কাজ পাগল মানুষ অথবা চৌকস কর্মকর্তা ইতিপূর্বে দেখেনি আড়াইহাজার উপজেলাবাসী। তিনি এই অল্প সময়ে বদলে দিয়েছেন সরকারি এই হাসপাতারটিকে। সেবার মান বৃদ্ধি করেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন। শত কাজের মধ্যেও সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। সবার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালের ইতিহাসে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করেন উপজেলার সূধীমহল।

আড়াইহাজার উপজেলার পাশেই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই সরকারি হাসপাতাল দেশের অন্য উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। হাসপাতালটি ঝকঝকে, তকতকে। সেবা নিয়েও এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট। তিনি যোগ দেয়ার ৯ মাসেই এই সরকারি হাসপাতালে পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সহায়তা পেলে দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালেও এই পরিবর্তন আনা সম্ভব। গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার বড় আশ্রয়স্থল উপজেলা হাসপাতাল। হাসপাতাল ফটক দিয়ে ঢোকার সময় একজন প্রহরী চোখে পড়ে। তিনি রিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সবুজ চত্বর ও ফুলবাগানও চোখে পড়ে। হাসপাতালের ভেতরে অন্য কোথাও গাড়ি বা যানবাহন রাখা নিষেধ। পুরো হাসপাতাল ঝকঝকে-তকতকে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার তাঁরা হাসপাতাল ঝাড়ু দেন, টয়লেট পরিষ্কার করেন।

একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। আঞ্জুমান বেগম বলেন, ‘মাস ছয়েক আগে ডায়রিয়ার কারণে ভর্তি হয়েছিলাম। এবার অসুস্থ হওয়ার পর এসে দেখি হাসপাতাল পাল্টে গেছে। হাসপাতাল নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে। বাথরুম পরিষ্কার। অনেক স্বস্তিতে আছি।’

আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ব্যাপক পরিবর্তনের নেপথ্যেও কারণ জানতে কথা হয় আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে যার ভূমিকা সর্বাগ্রে তিনি হলেন ডা. সায়মা আফরোজ ইভা। ৯ মাসের পরিশ্রম দিয়ে তিনি এই হাসপাতালটিকে পাল্টে দিয়েছেন। আড়াইহাজারের প্রায় ৩১৫টি গ্রামের সাধারণ দরিদ্র মানুষরা এখন এই হাসপাতালে স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসা নিতে আসেন। মজিবুর বলেন, ডা. ইভা স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সহধর্মিণী হলেও তিনি কখনই সেই পরিচয়টিকে তার পেশায় টেনে আনেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা জানান, আমি শুধু আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বটুকুই পালন করেছি। এর বেশি কিছু না। তবে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়ে যখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য, আমার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করেন তখন মনে হয় এই পেশাটা স্বার্থক হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here