কাকাইল মোড়ায় ফের উত্তেজনা , পুলিশ বাদী হয়ে ৪শ অজ্ঞাত লোকের নামে মামলা

0
1378

বিশেষ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দফায় দফায় সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হবার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে উভয় পক্ষের ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৩ থেকে ৪শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। সোমবার সকালে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালেও উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইল মোড়া গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে সকালে আড়াইহাজার থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) পলাশ কান্তি রায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় আড়াইহাজার থানা পুলিশের কন্সটেবল আসাদুজ্জামান ও বজলুর রহমান আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টায় উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইল মোড়া গ্রামে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষের ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট উপজেলার কাকাইল মোড়া গ্রামের একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিভক্ত হয়ে পড়ে কাকাইল মোড়া গ্রাম। ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে কয়েক দিন আগে ওই গ্রামের আগামী নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী হিসেবে জুলহাসের লোকজন ফেইসবুকে বিচার চেয়ে স্ট্যাটার্স দেয়। এতে বর্তমান মেম্বার লোকমান ও তার সহযোগি তোফাজ্জলসহ আরো কয়েকজনকে দায়ী করে বিচার চাওয়া হয়। এই নিয়ে লোকমান ও জুলহাসের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে রোববার সকাল ৯টার দিকে উভয় পক্ষ দা. ছুরি, টেটা, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্র পরিণত হয়। সংঘর্ষ থেমে থেমে চলে বিকাল পর্যন্ত। খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গেলেও নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। দুপুরের দিকে সংঘর্ষের মাঝে অসহায় অবস্থায় দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংঘর্ষ থামলেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে সেখানে। সংঘর্ষে টেটা বিদ্ধ আবুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮ জনকে আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষেই ২০/২৫টি ঘরবাড়ি ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে নেতৃত্ব দানকারী লোকমান ও জুলহাস উভয়ই সরকার দলীয় সমর্থক।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।
গত ৮ আগস্ট উপজেলার কাকাইল মোড়া গ্রামে এক যুবতীকে গণধর্ষণ করে দৃবৃর্ত্তরা। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি। তারপর ঘটনাটি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় কাকাইল মোড়া গ্রাম। এতে বাধে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here