ঝাউকান্দিতে আগুন দূর্ঘটনা না নাশকতা তদন্ত চলছে

0
243

বিশেষ প্রতিনিধি: কালাপাহাড়িয়ার ঝাউকান্দি গ্রামের রমজানের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাটি দূর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কালাপাহাড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর)তার নয়টায় রমজানের বসত ঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশেপাশের লোকজন এসে সাধ্যমত চেষ্টা চালাচ্ছে আগুন নিয়ন্ত্রণে।সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আধাঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
ঐ দিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মহিতুল ইসলাম হিরু বলেন, ঘড়ির কাঁটায় রাত ন’টা। খবর পেলাম সড়কপাড়া ছোবহান ভাইয়ের ঘরে আগুন লেগেছে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিলাম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জ হারেছ ভাইকে। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো। দৌঁড়ে ছুটে গেলাম আগুন নেভাতে। আমার ডাক চিৎকারে আশপাশের সবাই ছুটতে লাগলেন ঘটনাস্থলে। পথিমধ্যে চাচাত ভাই রায়হান আমার সাথে দৌঁড়াতে লাগলো। গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। নতুন একটি চৌচালা টিনের ঘর চোখের সামনে জ্বলছে। আগুনের এতো তাপ যে আগুন নেভাতে কাছে যেতে পারছিলাম না। এর মধ্যে চারদিক থেকে লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে আশপাশ থেকে পানি আসছে। মগ দিয়ে একটু একটু করে পানি ছিটিয়ে দিচ্ছি। উপস্থিত কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করছে, কেউ কেউ পানি ছিটাচ্ছে। চাচাত ভাই রাসেল প্রবল অগ্নি-উত্তাপ উপেক্ষা করে পানি নিয়ে বীরদর্পে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, উপর্যুপরি পানি ছিটিয়ে যাচ্ছে। জহির উদ্দিন, আরমান, রায়হান সহ বড় বাড়ি এবং ইজারকান্দি নয়াহাটির যুবকরা আগুন নেভাতে প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০/২৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। খেয়াল করেছি আগুন নেভাতে সবাই কতটা ঝুঁকি নিয়ে প্রাণপণেকাজ করে চলছে। আগুন লেগে নতুন একটি ঘর পোড়ায় যেমন কষ্ট পেয়েছি আবার আগুন নেভাতে সবার ঐক্যবদ্ধ মনোভাব দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এভাবে যদি সবাই সবার বিপদে এগিয়ে যেতে পারতাম তাহলে সমাজটা কতই না সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হতো। আগুন নেভাতে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছে তাদের সবার জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইল। যাদের ঘর পুড়েছে তাদের জন্য সমবেদনা। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অশেষ ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here