দক্ষ ১০ বিভাগীয় নারী প্রধানে এগিয়ে যাচ্ছে আড়াইহাজার উপজেলা

0
469

মাসুম বিল্লাহ: একটি পরিবার, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সমাজ কিংবা একটি দেশ সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও সমন্বয় ছাড়া শান্তি-সমৃদ্ধি এবং সম্প্রীতির পথে এগোতে পারে না। কারণ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে পুরুষের সমান আবার কোথাও কোথাও একটু বেশিই রয়েছে কর্মক্ষেত্রে নারীর আধিক্য। কাজেই এ বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ, সমন্বয়, সহযোগিতা ছাড়া পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, এমনকি দেশ সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘নারী’ কবিতায় লিখেছেন,… ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। … এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল, নারী দিল তাহে রূপ-রস-সুধা-গন্ধ সুনির্মল, সেদিন সুদূর নয়-যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়..।’ সম্ভবত, নারীদের জন্য কবি নজরুলের সেই প্রত্যাশিত শুভদিন এখন। সমাজের উন্নয়নে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণের ওপর জোর চলছে প্রতিটি ক্ষেত্রে।
নারীরা এখন শুধু রেঁধে কিংবা চুল বেঁধেই তাদের দিন অতিবাহিত করেন না। এখন তারা সবখানেই নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন নিজ নিজ যোগ্যতা, মেধা, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। আমাদের দেশের নারীদের সরব অবস্থান এখন কেবল পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই, সমাজের বিভিন্ন স্তরে -প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, আনসার, ভিডিপি, বিজিবি, বিমান পরিচালনা, ট্রেন পরিচালনা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, শিক্ষকতা, নার্সিং, রাজনীতি- সর্বত্র নারীর বিচরণ রয়েছে। এই জন্য এক উপজেলাতেই ১০ জন বিভাগীয় প্রধান সুনামের সহিত কাজ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা:
ডা: সায়মা আফরোজ ইভা : তিনি নরসিংদীতে মুসলিম ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবা হলেন মরহুম অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নরসিংদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। মা নরসিংদী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভানেত্রী। আড়াইহাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী ডা. ইভা জহিরুল হক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন ২০১০ সালে। অদ্যবধি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের মধ্যে বড় হয়েও বেছে নিয়েছেন মানবসেবার পেশা। মেধাবী ও পরিশ্রমী এই মানুষটির জীবনযাপন অত্যন্ত সাদামাঠা। সকলকে আপন করে নেয়ার এক সম্মোহনী শক্তি বিধাতা তাকে দিয়েছেন। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকেও নেই কোন অহমিকা দাম্ভিকতা, বরং সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন।
ইতোমধ্যেই তার দায়িত্বের ১ বছর অতিক্রম হয়েছে। দায়িত্বের পর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি দায়িত্বের প্রতি চিকিৎসকবৃন্দ হয়েছেন সচেতন। হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে এনেছেন গতিশীলতা। ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবায় হাসপাতালটি এগিয়েছে একাধাপ। টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা ২৪ ঘন্টা খোলা এখন। এসবের পিছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। জরুরী বিভাগ ২৪ ঘন্টা খোলা। এএনসি পিএনসি সেবা কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য একটি হটলিংক নাম্বার চালু, বিনামূল্যে নরমাল ডেলিভারি সহ সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মুজিব শতবর্ষে পরপর ধারাবাহিকভাবে দুই মাস একশত নরমাল ডেলিভারির বিরল রেকর্ড আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দখলে। জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষায় এক দিনের হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৩৫ এবং দুই দিন হিসেবে সর্বোচ্চ ৫১২ জনের এক অনন্য রেকর্ডের মালিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আড়াইহাজার। মুজিব শতবর্ষে মুজিব কর্নার স্থাপন, রয়েছে শিশুদের খেলার জন্য কিডস জোন। শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক রেস্পিরেটরি ইউনিট চালুতে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকসহ মাঠ পর্যায়ে সেবা কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে বহুগুণ। চলমান রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প। গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রয়েছে মানবতার দেয়াল।
সবকিছু মিলে হাজারো সীমাবদ্ধতার মাঝে ও সর্বোচ্চ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়মা আফরোজ । বিশেষ করে করোনা প্রাদূর্ভাব মোকাবেলায় তার কাজগুলো উপজেলাবাসীকে আরও মুগ্ধ করেছে। করোনা থেকে উপজেলাবাসীকে নিরাপদ রাখতে তিনি সকল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা :
”যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।” বহুল প্রচলিত এই কথাটি সবার জানা। নারীর বিচরণ এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বিচরণ পৃথিবীর সবত্র। বহু বিস্ময় জাগানিয়া কৃতিত্বের সাথে স্বর্ণাক্ষরে জড়িয়ে আছে অসংখ্য গুণী নারীর নাম।
মাহমুদা আকতার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, আড়াইহাজার উপজেলায় অত্যান্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার সুন্দর আচারণ উপজেলাবাসীকে মুগ্ধ করেছেন। তিনি ১৯৮৭ সালের মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। ২০০২ সালে তিনি বাউশিয়া এম এ আজহার উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পাস করেন এবং ২০০৪ সালে গজারিয়া কলিমুল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০০৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন এবং সফলভাবে ২০১০ সালে বি.এস.সি ইন (ফিশারিজ) অনার্স ও এম.এস.সি ইন (ফিশারেজ ম্যানেজমেন্ট) সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১১ সালে পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি থেমে থাকেননি। তার অদম্য ইচ্ছা ও চেষ্টার ফলে ২০১২ সালে ৩০ তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি বিসিএস মৎস্য ক্যাডারে যোগদান করেন।
প্রত্যেক ব্যক্তির সফলতার পেছনে কোন না কোন মানুষ থাকেন, কোন সফল মানুষের প্রতিচ্ছবি থাকে, ঠিক তেমনি মাহমুদা আকতারের সফলতার পেছনে তার মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের মা। ঘরে বাইরে সব জায়গাতেই তিনি সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার:
রাফেজা খাতুন: আড়াইহাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত আছেন। তিনি সিআরপি সাভার উপজেলার উত্তর চাপাইন গ্রামে ৫ ফ্রেবুয়ারি ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করেন। এরপর সম্ভুষপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি সাভার কলেজ থেকে এইচ এসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ করেন। সবশেষ তিনি ২০০৩ সালে ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি বিএড ও এমএড ডিগ্রী অর্জন করেন। কর্মজীবন শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি প্রথমে হয়রত আহসান উল্লাহ সরকারী বিদ্যালয় সাভারে যোগদান করেন। এইখানে তিনি ৩ বছর শিক্ষকতা করেন। পরে ২০০৬ সালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি সুনামের সাথে বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করেন। সবশেষ তিনি ২০১৬ সালে আড়াইহাজারে যোগদান করেন। তিনি বর্তমানে আড়াইহাজার উপজেলায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আছেন।

ডিজিএম : পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২
সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন : ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ,নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২। ডাক নাম নিপা। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের কাছে নিপা নামে পরিচিত হলেও কর্মব্যস্ততার কারনে নামটি বিলুপ্তির পথে। বাবা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক, মা নিলুফা খানম গৃহিনী। এক ভাই ও দুই বোন। বাবা মা এর দ্বিতীয় সন্তান সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনের শৈশব ও কৈশোরে বেড়ে ওঠা সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলায় ঘেরা চারদিকে পানি বেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলায়। প্রাথমিক এর গন্ডি পার হয় বাড়ির পাশেই পরানগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ৫ম ও ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি ও বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে ৮৬৯ স্টার মার্কসসহ ভোলা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হন। ফলে অত্র এলাকায় ভাল ফলাফলের জন্য বেশ সুনাম ও পরিচিতি লাভ করেন। মফস্বল শহরে বিজ্ঞানের ভাল শিক্ষক না থাকায়,অনেক স্বপ্ন আশা নিয়ে ডাক্তার হওয়ার জন্য বিজ্ঞান গ্রুপে মতিঝিল আইডিয়াল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। কিন্তু ভর্তি হয়েও নিরাপদ আবাসন সঙ্কটের জন্য সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ফেরত যেতে হয়। শুধুমাত্র মেয়ে বলেই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সুযোগ পেয়েও স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ভোলা আলতাজের রহমান কলেজ মানবিক গ্রুপ থেকে ৭১৯ মার্কস পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উর্ত্তীণ হয়ে বড় ভাইয়ের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় ১৯৯৮ -১৯৯৯ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে ৩ মে ২০০৮ সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে যোগদান করেন।
ডিজিএম জানান, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের এগিয়ে যাওয়া -চলা চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে অটুট লক্ষ্য, অবিচল আস্থা-আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে এলে কেউ পিছিয়ে থাকে না। প্রয়োজন চেষ্টা ও স্বপ্ন। আর এ স্বপ্নকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নিজের দক্ষতা ,ক্ষমতা ও যোগ্যতা বিকাশে উন্নয়ন ঘটাতে হয়। আজকের দুনিয়ায় এমন কোন কাজ নেই যা নারীরা করতে পারে না। পরিবার ,সমাজ ও রাষ্ট্র সহযোগিতা করলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
আঠারোয় পা দিলেই বিয়ের চিন্তা না করে বাবা মায়ের উচিৎ মেয়েদের যোগ্য করে তোলা এমনটা ভাবেন তিনি। বর্তমান সরকারের আমলে নারীর ভাগ্যোন্নয়ন ও উত্তরনের লক্ষে যে নারী আন্দোলন, সচেতনতা সৃষ্টি ও বৈশ্বিক প্রভাব অব্যাহত রয়েছে তা অবশ্যই আশার সঞ্চার করে।
তিনি জানান, ২৪ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন ও গুনগতমান সম্পন্ন বিদ্যুৎ সেবা দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । আমি ভাগ্যবান যে আমার সহকর্মী, উর্ধ্বতন ,পরিবার সকলের কাছে সহযোগিতা পেয়েছি। তাই আমি এ পর্যাায়ে আসতে পেরেছি। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পেশায় মেয়েরা চাকুরী করলেও বিদ্যুৎ সেক্টরে মাঠ পর্যাায়ে নির্বাহী পদে মেয়েদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে।
যোগদানের পর থেকে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য পুরস্কৃত হওয়াসহ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার জন্য প্রতিটি কর্ম স্টেশনে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা:
নাহিদা নাছরিন শিমুল ঃ গত দুই বছর যাবত আড়াইহাজার উপজলোয় সমবায় র্কমর্কতা হিসেবে র্কমরত আছেন। তাহার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায়। পিতা একেএম.নুরুন নবী এবং মাতা হাছিনা বেগমের পাঁচ সন্তানরে মধ্যে তিনি মেঝ। ১৯৯৬সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ব হন এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বর্তমানে স্বামী আবুল কাশেমের সাথে সংসার জীবন অতিবাহিত করছেন। মেয়ে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সিতে জিপিএ ৫ পেয়ে ভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেছেন এবং ছেলে এইচ.এস.সিতে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি ফেনী সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী, বেগমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজ থেকে এইচ. এস. সি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে স্নাতক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতোকোত্তর পাস করেন। তিনি ৬জুলাই, ২০০০ সালে সমবায় বিভাগ চট্টগ্রামে যোগদান করে র্কমজীবনের সূচনা করেন। তার পিতা কুমিল্লা জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে ১৯৯৫ সালে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন। তিনি আড়াইহাজার উপজেলায় অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খুবই মিশুক এবং আন্তরিক।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা:
রেজুয়ানা হক: আড়াইহাজার উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা হিসেবে অত্যান্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ৮ এপ্রিল ১৯৮৮ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম রেজাউল হক, মাতার নাম মোসাম্মৎ সুফিয়া খাতুন। উথলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। এর পর উথলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তী তিনি আদর্শ সরকারী মহিলা কলেজ চুয়াডাঙ্গা থেকে এইচ এসসি পাশ করেন। এরপর জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে গনিত বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পড়ালেখা শেষে তিনি বিভিন্ন বেসরকারী স্কুলে চাকুরী করেন। কিছু দিন রমনা রেলওয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
সবশেষ তিনি ৩ জুন ২০১৮ সালে আড়াইহাজার উপজেলায় আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সুনামের সাথে উক্ত উপজেলায় কর্মরত আছেন। তার নেতৃত্বে উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিস নিজস্ব জায়গায় করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার সোমিদুল ইসলামের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্বামী সোমিদুল ইসলাম ফকির ফ্যাশনের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা:
শাহীনূর বেগম খুকীঃ উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, বিআরডিবি আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার অর্ন্তগত কটিয়াদী উপজেলার পংমসূয়া গ্রামে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বেতাল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কটিয়াদী হতে এসএসসি, ডাঃ আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজ হতে এইচএসসি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গুরু দয়াল সরকারী কলেজ, কিশোরগঞ্জ হতে বিএসএস(সম্মান)ও মিরপুর বাঙলা কলেজ, ঢাকা হতে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ জানুয়ারি ২০১৪ সালে তিনি বিআরডিবিতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায় প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৭ সালে তিনি আড়াইহাজার উপজেলায় যোগদান করেন। অধ্যাবদি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বিবাহিত এবং তিন পুত্র সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি তার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করার জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
আড়াইহাজার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে অত্যান্ত সুনামের সাথে কাজ করছেন নাসরিন সুলতানা। তার পিতার নাম সৈয়দ আব্দুল মান্নান, মাতার মিসেস আলেয়া বেগম। ১৫ ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলায় তিনি জন্মলাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি দেশের অনেক উপজেলায় কাজ করেছেন।

শিক্ষা জীবনের শুরুতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু করেন। বিএম কলেজ বরিশাল থেকে এম,এস,এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) এ উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরু ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে। অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে গোপালপুর, টাংগাইল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ঢাকা, হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ, কটিয়াদী কিশোরগঞ্জ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ও বর্তমান কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্বামী মোঃ মাহমুদজ্জামান রাজশাহীর নওগাঁর পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা:
সুলতানা এলিনঃ আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে অত্যান্ত দক্ষতার সাথে কর্মরত আছেন। ইতোমধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করতে গিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ১৬ জুলাই ১৯৮০ সালে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এনামুল হক ভুইয়া, মাতা ফিরোজা বেগম, স্বামী মো: শাহজালাল মিয়া। তিনি ১৯৯৫ সালে মানবিক বিভাগ থেকে রামপাল এনবি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮০৪ মার্কস পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৭ সালে রামপাল মাহা বিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৯৯ সালে সরকারী হরগঙ্গা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। ২০০১ সালে রাস্ট বিঞ্জান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন তেজঁগাও কলেজ থেকে। তিনি নারায়ণঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে শ্রীপুর এবং সবশেষ তিনি আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগদান করেন।

তথ্যসেবা কর্মকর্তা:
তাছলিমা আক্তারঃ বর্তমানে অত্যন্ত সততা,দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার সাথে কাজ করছেন তথ্যসেবা কর্মকর্তা হিসেবে তথ্যকেন্দ্র,তথ্যআপা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্পে। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার ব্রাহ্মনখালী গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মৃত অলি প্রধান এবং মাতা লতিফা বেগমের ৪ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট এবং আদরের। ছোট কাল থেকেই তিনি প্রাণচঞ্চল,বাধ্যগত এবং আন্তরিক। পছন্দ করেন গল্প,আড্ডা, ঘুরাঘুরি এবং অন্যের বিপদে এগিয়ে যাওয়া মানুষের পাশে থাকা।
তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় ব্রাহ্মনখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশুনা করেন জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এবং একই শাখায় উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন সলিমউদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে। বি.বি.এস (অনার্স) এবং এম.বি.এস(মাস্টার্স) শেষ করেন ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয় নিয়ে। তিনি সকল ক্লাসে শিক্ষকদের অত্যন্ত অনুগত ও প্রিয় ছাত্রী ছিলেন।শুধু পড়াশোনায় নয় খেলাধুলায়ও ছিলেন পারদর্শী। গত দুই বছর যাবত নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আড়াইহাজার উপজেলায় নিয়োজিত আছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের বাংলাদেশ অর্থাৎ উন্নত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ অসহায়,দরিদ্র,সুবিধা বঞ্চিত বা কম সুবিধা প্রাপ্ত নারীদের তথ্য ও সহযোগিতা প্রদানের জন্যে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন আমাদের সকলের প্রিয় তথ্যআপা তথ্যসেবা কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here