পাল্টে গেছে আড়াইহাজার সরকারী হাসপাতালের চিত্র

0
322

বিশেষ প্রতিনিধি :অতি শীঘ্রই বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করবে আড়াইহাজার সরকারি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স।’ এমন ভবিষ্যত বাণী করে গেলেন স্বাস্থ্য বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তি। যিনি লাইন ডিরেক্টর। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য্য ও পরিবর্তনে মিলেছে সেরা হাসপাতালের স্বীকৃতি। এই অর্জনের কৃতিত্ব হাসপাতালে কর্মরত সকলকেই দিতে চান ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা। ঢাকা বিভাগে তৃতীয় এবং সারাদেশে ১৬ তম স্থান অধিকার করেছে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। সকাল ৯ টায় ঢুকে বিকাল ৪ টায় বের হন ডাঃ ইভা। এটা বোধ হয় তাঁরই কর্মফল। এমন মন্তব্য সহকর্মীদের। আউটডোর এবং ইনডোর এর বারান্দায় ফুলের টব। সবকিছু কেমন গোছানো। মেঝেতে কোন ময়লা-আবর্জনা নেই। লম্বা করিডোর। কোথাও এক টুকরা কাগজও চোখে পড়ে না। মেঝে ঝকঝকে তকতকে। আগের মত বালুর আস্তর নেই। এই চিত্র রাজধানী ঢাকার কোন বড় হাসপাতাল বা ক্লিনিকের হতে পারে। কিন্তু এটাই যে আড়াইহাজার উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বর্তমান চিত্র। হাসপাতালে ঢুকেই ভিড়মি খেয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা থেকে আসা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মহাশয়। লা জবাব হয়ে যান। উপজেলা হাসপাতালের ‘এমন চিত্র অকল্পনীয়’ বলেও মন্তব্য করতে ছাড়েন না। মনের খুশিতে পুরো হাসপাতালটি পরিদর্মন টিমের সদস্যরা খুব উৎসাহ ভরে দেখেন। আড়াইহাজার উপজেলা হাসপাতালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা তাদের মুগ্ধ করেছে।
কোথাও একটু ময়লা নেই। এওকি সম্ভব ! পরিদর্শন টিমের সদস্যদের যেন আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর, টিকিট ঘর, ডাক্তারদের কক্ষ ও দোতালায় উঠার সিঁড়িগুলো পর্যন্ত সবাই রূদ্ধশ্বাসে দেখলেন। ওরে বাবা ! এত পরিচ্ছন্নতা কেবল নামিদামী হাসপাতাল, ক্লিনিকেই সম্ভব। সরকারি হাসপাতালে যেনো জাদুর ছোঁয়া লেগেছে।
বলতে দ্বিধা নেই ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা’র জাদুতে হাসপাতালের চেহারাটাই বদলে গেছে। পরশ পাথরের পরশ লেগেছে বললে অত্যুক্তি হবে না। ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা আড়াইহাজারবাসীর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। তিনি আড়াইহাজারের উন্নয়নের অগ্রনায়ক জননেতা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুর যোগ্য সহধর্মীনি। স্বামী পুরো আড়াইহাজারের চিত্র বদলে দিয়েছেন। স্ত্রী কম কিসে। উপজেলা হাসপাতালটিকে আধুনিকতার শিখরে পৌঁছাতে কাজ করছেন। এমনটা কখনো হয়নি। আড়াইহাজারের উন্নয়নে তাঁরা এখন মানিকজোড়। আগের জামানায় যারা দায়িত্বে আসতে পেরেছিলেন তারা এমনটা স্বপ্নেও ভাবেন নি। শুধু স্বপ্ন দেখতেন কি করে সরকারি বরাদ্ধ থেকে ভাগ বসানো যায়। এক্ষেত্রে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু ভিন্ন ধাতুতে গড়া একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে হলেও আড়াইহাজারের উন্নয়নে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কথায় আছে ‘রতনে রতন চিনে।’ এমপি মহোদয় ডাঃ ইভাকে সত্যিই চিনতে পেরেছিলেন বলেই আজ বদলে গেছে পুরনো নোংরা ও এক সময়ের পূতিগন্ধময় সরকারি হাসপাতালটি। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটি যেন এখন ফুটন্ত গোলাপ। দিনে দিনে সৌন্দর্য্য ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে। গাছ-গাছালি ও বাগান বাহ্যিক সৌন্দর্য্যকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
আড়াইহাজার উপজেলা সরকারি হাসপাতাল এখন প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এমনটাই মনে করেন গ্রামের মহিলারা। আগুয়ানদি গ্রাম থেকে এসেছেন আছিয়া বেগম নামে একজন মাঝ বয়েসি মহিলা। জানালেন, পুত্রবধূকে নিয়ে এসেছেন। ছেলের বউ ৪ মাসের পোয়াতি। ডাঃ শান্তা ম্যাডাম তাকে চেকআপ করবেন। প্রথমেও এসেছিলেন। শান্তা ম্যাডাম ভাল করে দেখে পরামর্শ দিয়েছেন। গাইনী বিভাগের সামনে মহিলাদের ভিড়। সকলেই ডাঃ শান্তা ত্রিবেদীর কাছে এসেছেন। তাঁর সেবা পেয়ে রোগীরা এখন ক্লিনিকে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
হাসপাতাল সম্পর্কে জানেন , আগের ও বর্তমান অবস্থা তুলনা করে কয়েকজন বোদ্ধালোক জানান, এমপি বাবু’র আগেও হাসপাতালটি ছিল। চিকিৎসা সেবাও দেয়া হত। কিছু লোক ঔষধও পেত। তবে সিরিয়াস রোগী রেফার্ড করা হতো ঢাকায়। হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা কাজে আসতো না। সেটা বরাবরই থাকতো নষ্ট। না হয় চালক ছুটিতে। গর্ভবতী নারীদের কোন ভরসা এই হাসপাতালে ছিল না। যতটা ভরসা ছিল গ্রামের ধাত্রীদের উপর। যেখানে হাসপাতালের সার্বিক সুযোগ-সুবিধাই নিয়মিত মিলতো না। সেখানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বালাই ছিল না। আউটডোর ও ইনডোর বলে কোন কথা ছিলনা। সর্বত্র মিলতো রোগীদের ব্যবহৃত গজ, ব্যান্ডেজ ও তুলা। জরুরী বিভাগে কাঁটা-ছেড়া রোগী ছাড়া অন্যান্য রোগী ভর্তি রাখা হতো না। রাখলেও ভৌতিক পরিবেশের কারণে রোগীরা বিকেলের দিকে বাড়ি ফিরে যেত। প্রয়োজন পড়লে সকালে এসে আবার হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতো। এটাই ছিল সাবেকি চিত্র। এই চিত্রটা এখন কল্পনাও করা মুশকিল। হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা দেখলে মানুষ আগের চিত্রটা কিছুতেই বিশ্বাস করবে না। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের কারিগর ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা। আমরা তাকে স্যালুট জানাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here