স্বাগতম-আরবী নববর্ষ ‘‘মুহাররাম’’

0
194

পীরজাদা মুহাম্মদ এমদাদুল্লাহ্ শাজলী ঃ গোলামের প্রশংসা সব তাঁর জন্য যার তাসবীহ সদা সর্বদা পাঠ করেন-৮০ হাজার আলম ১৮ হাজার মাখলুকাত তথা গোটা সৃষ্টি জগত। মনের ভালবাসা, প্রেমের পিপাসা, অন্তরের মণিকোঠা হতে-ভক্তিপূর্ণ শ্রদ্ধা, হৃদয় উজাড় করা দুরুদ ও সালাম জানাই- ঐ সত্তার কদমে ফেরেস্তাকুল সহ যার উপর দুরুদ পাঠ করেন খোদ- খোদা তায়ালা। ভক্তিপূর্ণ সালাম জানাই আসহাবে রাসুল, নবী (সা:) পরিবার ও কারবালার শহীদগনের প্রতি। যাদের জীবনের বদৌলতে আজ আমরা মুসলিম সমাজ ও পরিবারের সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। ফুরাতের পানি পান করে কত মানুষ, প্রাণীকুল পিপাসা নিবারণ করেছে, করতেছে, রোজ কিয়ামত পর্যন্ত পান করবে! কত জঘন্য তামাশা, সীমাহীন জুলুম, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস নবী (সা:) পরিবারের সদস্য ইমাম হোসাইন (রা:) ও তাঁর সঙ্গী সাথী, নারী, শিশু পানি-পানি করে শহীদ হয়ে গেলেন কিন্তু ইয়াজিদ-সীমারের বাঁধার কারণে এক চুমুক পানি ও পান করে জীবন বাঁচাতে পারলেন না ! নবী (সা:) পরিবার ও তার সঙ্গী সাথীরা শহীদ হয়ে মুসলিম জাতিকে শিক্ষা দিয়ে গেলেন ‘‘অসত্যের কাছে কভু নত নহি শির, ভয়ে কাঁপে কা-পুরুষ লড়ে যায় বীর। শৃগাল কুকুরের মত হাজার বছর জীবন-ধারন না করে সিংহের মত ক্ষন-কাল বেঁচে থাকা শ্রেয়’’। এ শিক্ষা আমাদেরকে বুঝাবার জন্য জীবন দিয়ে স্ব-পরিবারে শহীদ হয়ে গেলেন, তবুও ইয়াজিদ- সীমারের সাথে আপোষ করেননি- সত্যের সৈনিক নবী (সা:) পরিবারের সদস্যরা। ইরাকের কারবালা প্রান্তরে- সাহাবী ও নবী (সা:) পরিবারের ৮২ জন জান্নাতী মেহমান যে মাসে পানি পানি করে শহীদ হয়েছিলেন সে মাসের নাম ‘‘মুর্হারাম ’’। এক বছর পর ইসলামী চেতনার দুয়ারে কড়াঘাত দিয়ে মুসলিম জাতীকে জাগ্রত করার জন্য আমাদের মাঝে আবারও ফিরে এসেছে ‘‘মুর্হারাম’’। রাসুলের হিজরত হতে সুচিত ইসলামী পুঞ্জিকা মোতাবেক চন্দ্র বছরের ১ম মাসের নাম মুর্হারাম। হিজরী চন্দ্র বছরের গণণা রাসুলের (সা:) যুগ হতেই আরম্ব হয়েছিল। রাসুল (সা:) নাজরানের খৃীষ্টানদের নিকট লিখিত তার এক পত্রে হিজরী ৫ম সন কথাটি লেখার আদেশ দিয়েছিলেন। অবশ্য হিজরী চন্দ্র বছরের গণণা ব্যাপক ও সরকারি ভাবে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা:) এর খেলাফতের যুগেই প্রচলিত হয়। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মোতাবেক ইসলামী শরিয়াতে বার মাসে এক বছর হয়। মাস ও বছরের আলোচ্য এ প্রাকৃতিক বিধানটি জগত সৃষ্টির সুচনা লগ্ন হতেই কায়েম ও প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা উক্ত ১২ মাসের মধ্য হতে ৪ টি মাস কে (মুর্হারাম, রজব, জিলকদ, জিলহজ) অধিকতর বরকত ও সম্মানের মাস রূপে নির্ধারন করেছেন। উক্ত ৪ মাসের মর্যাদা ও পবিত্রতার পরিপ্রেক্ষিতে উহাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে উক্ত চার মাসের মধ্যে কৃত ইবাদত-বন্দেগী অধিকতর প্রিয় ও ছাওয়াবের বস্তুু বলে গণ্য করা হয়েছে।

আরব উপ-দ্বীপে চন্দ্রমাস ও চন্দ্র বছর গননার প্রথা হযরত ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আঃ) এর যুগ হতে চলে আসছে। চন্দ্র মাস ও চন্দ্র বছর গননার সুবিধা হলো- এর ফলে হাজ্ব, সাওম ইত্যাদি ইবাদাত সমূহ পালনের মৌসুম পরিবর্তিত হয়ে এগুলো বিভিন্ন বছরে বিভিন্ন মৌসুমে পালিত হয়ে থাকে। জাহিলী যুগে আরবগণ নিজেদের স্বার্থ হাছিলের উদ্দেশ্যে চন্দ্র মাস গুলোর ক্রমবিন্যাস পরিবর্তন করে উহা আগে-পরে করে নিত। এর দ্বারা ইবাদত সমূহের সময় ও মৌসুমও প্রভাবিত হতো। ইসলাম উক্ত পরিবর্তনকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন এবং ঘোষনা করেছে যে, আল্লাহ তায়ালা শরিয়তের বিধান সমূহ পালন সহজ করার উদ্দেশ্যে চন্দ্র মাস ও চন্দ্র বছরের গননাকে মনোনীত করেছেন। রাসুল (সা:) জুমাতুল বিদার বরকত ময় সময়ে খুতবা প্রদান করতে গিয়ে এ বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রাসুল (সা:) বলেছেন- জগত সৃষ্টির সময় হতে আল্লাহ বছরের মাস সমূহের সংখ্যা ও এদের ক্রমবিন্যাস যেভাবে নির্ধারিত করে দিয়েছেন তা যেন অপরিবর্তিত রাখা হয়। খুতবায় তিনি আরও বলেছেন- আগে- পরে করার কারণে চন্দ্র মাস সমূহের ক্রমবিন্যাস ইতিপূর্বে যে পরিবর্তন ও বিকৃতি ঘটেছিল এরও পরিসমাপ্তি হলো এবং মাস গুলো বর্তমানে এদের মূল ক্রম বিন্যাস অনুসারে বিন্যস্ত হয়েছে। শরিয়াতের বিধি -বিধান পালনের ক্ষেত্রে চন্দ্র মাস ও চন্দ্র বছরের গননা-ই- গ্রহনযোগ্য হবে এবং এ কারণে চন্দ্র মাসের তারিখ ও চন্দ্র বছরের গননাকে হেফাজত করা অত্যন্ত জরুরী।

তাই আসুন, মুর্হারামের সম্মানে কণ্ঠে-কণ্ঠ মিলিয়ে বলি-স্বাগতম মুহাররাম! আহ্লান-সাহ্লান মুর্হারাম !! শুভেচ্ছা-স্বাগতম, আরবী নববর্ষ- মুহাররাম!!! এ মাসকে সম্মান প্রদর্শন করা ও নির্ধারিত আমল গুলো পালনে শান্তি পাবে কারবালার শহীদগনের আত্মা। তাদের রুহানী ফয়েজ আসবে আমাদের জীবন ও অন্তরে। খুশি হবেন আল্লাহ তায়ালা, রহমতের বৃষ্টি নাজিল হবে অশান্ত এ পৃথিবীতে। যেহেতু দয়া মায়া করে মহান প্রভু আমাদেরকে মুসলমান তথা উম্মতে মুহাম্মদী (সা:) হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছেন- তাই থার্টিফাষ্ট নাইটের বেহায়াপনা ও বৈশাখী অনুষ্ঠানের কুফুরী কার্যক্রম নহে। আসুন ইবাদতের স্বার্থে আরবী চন্দ্র মাস ও বছরকে গননার গুরুত্ব অন্তরের গভীরে লালন করি। মালিক যদি- এ কলম চালু রাখার সক্ষমতা ভিক্ষা দান করেন তাহলে আগামী সংখ্যায় আশুরা ও শহীদে কারবালা সম্পর্কে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো- ইনশায়াল্লাহ!

লেখক-অলিয়ে কামেল মাওলানা মো: আবদুল জাব্বার
চিশ্তী শাজলী (রহ:) এর তৃতীয় সন্তান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here