স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার ধুম

0
116

স্টাফ রিপোর্টার : মার্কেট গুলোতে তিল ধরনের ঠাঁই নেই। উপক্ষো করা হচ্ছে স্বাস্থ্য বিধি। কোন দোকানেরই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই। তারপরও জমজমাট হয়ে উঠেছে আড়াইহাজার উপজেলার ঈদ মার্কেট । সকাল থেকেই বিভিন্ন মার্কেটে লক্ষ করা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বেঁচাকেনাও জমে উঠেছে বলে ব্যবসায়ীরা রাত দিন ক্রেতাদের সামলাতে হিমসীম খাচ্ছেন। সর্বত্র খুশির আমেজ। দুপুরের পর থেকে সবাই ছোটেন দ্রুত গতিতে।
রাজধানী ঢাকা থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আড়াইহাজার উপজেলার ক্রেতা সাধারণ বহু আগে থেকেই মূলত: ঢাকা মুখি। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া মার্কেট এবং নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার বড় বড় মার্কেট গুলোতেও কেনাকাটা করতে যায় আড়াইহাজারের সামর্থ্যবান শ্রেণীর লোকজন। পুরনো এই ধারাটির এখনো পরিবর্তন হয়নি।
আড়াইহাজার সদর ও গোপালদী পৌরসভা এলাকায় অবিস্থিত মার্কেট গুলোতে দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড়ে চলাফেরা করা যায়না। যুগের চাহিদা মেটাতে কয়েকটি আধুনিক মার্কেট থাকলে ও সেখানে আয়োজন অপ্রতুল। এ কারনে অধিকাংশ ক্রেতা হাতে একটু সময় নিয়ে ঢাকা কিংবা গাউছিয়ায় ছুটে যায় ঈদ মার্কেট করার জন্য। ফলে আজও আড়াইহাজার উপজেলার মার্কেট গুলো আট দশটি মফস্বল এলাকার মতোই রয়ে গেছে অনগ্রসর। তবে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে আড়াইহাজার বাজারের চিত্র।
উপজেলার আধুনিক মার্কেট দুবাই প্লাজা , শাহজালাল সুপার , পিংকি সুপার এবং হাবিব সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, এবার করোনার কারণে ১৫ রোজার পর থেকেই বাজার জমতে শুরু করেছে। সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। দম ফেলার ফুরসৎ নেই। ইফতারির সময় ও ঠিকমতো ইফতার করা যায়না। তবে বেঁচাকেনার গতি ভাল।
আড়াইহাজার বাজারের ইদ্রিছ সুপার মার্কেটসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র মার্কেট ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর অভাব নেই। অভাব রয়েছে ক্রেতার। কেননা বিত্তবান শ্রেণীটি বহু আগে থেকেই ঢাকা মুখি। আড়াইহাজার সদরে বেশ কয়েকটি বড় মার্কেট রয়েছে। তবে একটি আধুনিক বিপনী বিতান করে লাভ হয়না বরং লোকসান গুনতে হয়। সারা বছর বেঁচাকেনা থাকেনা। শুধু ২/৩ টি সিজনে ব্যবসা করে পোশায় না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা পণ্য উঠালেও এই উপজেলায় সামর্থ্যবান ক্রেতারা ঈদ মার্কেট করে ঢাকা কিংবা গাউছিয়ায়।
আড়াইহাজার পৌরসভাধিন নাগরা পাড়া এলাকা থেকে মার্কেট করতে আসা তাহমিনা আহমেদ বলেন, এর আগে ও মার্কেটে এসেছিলাম। দেখে চলে গেছি কেনাকাটা করিনি। এখন নতুন ডিজাইনের জামাকাপড় উঠেছে। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাব। দোকানীরা অনেক বেশী দাম হাঁকাচ্ছিলেন।
আড়াইহাজার বাজার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক  জানান, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার ক্রেতা অনেক বেড়ে গেছে। তবে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে ব্যবসায়ীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। মার্কেট গুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধান করায় তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, এবার ঈদবাজারে প্রচুর ক্রেতা-বিক্রেতার আগমণ হওয়ায় মার্কেট গুলোকে নিরাপত্তা বিধান করার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
আড়াইহাজার উপজেলার সদরে সবচেয়ে পুরাতন মার্কেট হাবিব সুপার মার্কেট,দুবাই প্লাজা, শাহজালাল সুপার মার্কেট , পিংকি সুপার মার্কেট,আশিক সুপার মার্কেট,ইদ্রিছ ম্যানসন সুপার মার্কেট,কাদির সুপার মার্কেট,বঙ্গবাজার মার্কেটসহ পরিচিত মার্কেট গুলোতে বেঁচাকেনার ধুম লেগেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here