‘এমন যদি হত দেশের সকল হাসপাতাল হত আড়াইহাজারের মত’

0
77

প্রশংসাটুকু যথার্থ হয়েছে নাকি বেশি- সে বিষয়ে কবি নিরব। তবে প্রশংসার কাজে নিন্দা আর নিন্দার কাজে মুখ ঢেকে রাখা কাপুরুষতা শুধু নয়-এটা গর্হিত কাজও বটে ! যৎ সামান্য অধ্যাবসায় করে এ কথাটুকু গুরুর কাছে শিখেছি। তাই ব্যক্ত করলাম। শুধু সাপ্তাহিক আমাদের আড়াইহাজার পরিবার নয় পুরো জেলাবাসী প্রশংসা করেছে। যতদূর জেনেছি এখনো নিন্দে কেউ করেনি। তবে কারো দাঁতমুখ খিচানো দেখেছি। মুখে কোন শব্দ হয়নি। এও জানি এরা বোবা নয়। তবে কারো ভাল কাজের প্রশংসা শুণলে নপুংসকের মত ওদের গাঁয়ে জ্বালা ধরে। আমরা নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কাগজ-কলম খরচ করাটাকে বোকামী বলেই মনে করি। বলতে দ্বিধা নেই ডাঃ ইভাকে নিয়ে যতটুকু প্রশংসা হয়েছে তিনি তার চেয়ে বেশি কাজ করে যাচ্ছেন। সে সাথে এও বলতে হয় তিনি প্রশংসা কুড়াতে চান না। তিনি এসেছেন প্রকৃত অর্থেই সেবা করতে। যেমনটা করে গেছেন হেলেন কেলার, মাদার তেরেসা, সুফিয়া কামাল এর মত মহিয়সী নারীরা। কর্মের জন্যই তাঁরা আজ প্রতি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
সাপ্তাহিক আমাদের আড়াইহাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যেত আড়াইহাজার হাসপাতালের মত যদি সব হাসপাতাল হত। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে মুগ্ধ হয়ে এই মন্তব্য করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (পিএএ)। বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কর্তৃপক্ষেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন সরকারের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ সময় তাঁর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন আড়াইহাজারের এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, ইউএনও মোঃ সোহাগ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, এসিল্যান্ড মোঃ উজ্জ্বল হোসেন। বিভাগীয় কমিশনার হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখে ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা’র প্রশংসা করেন।
সংবাদে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল কি দেখে প্রশংসা করলেন বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়। এই প্রশ্নের উত্তর আড়াইহাজারের প্রতিটি মানুষের জানা। সাধারণ মানুষের মুখের বয়ান, এখনকার হাসপাতালকে মনে হয় ঢাকার কোন বড় মেডিক্যাল। ঝকঝকে, চকচকে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। হাসপাতাল চত্বরে একটি গাছের পাতাও পড়ে থাকে না। ঝাড়ু দিয়ে সাথে সাথে পরিস্কার রাখা হয়। সামনের গেইট অত্যাধুনিক। হাসপাতাল ভবন ঝকঝকে। জরুরী বিভাগ, টিকিট ঘর, লম্বা করিডোর সবই নিখুঁতভাবে পরিচ্ছন্ন। কোথাও একটু ময়লা চোখে পড়ে না। রোগীদের ভিড় নেই। হাসপাতালে আসা মাত্র টিকিট কেটে সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ঔষুধ থাকলে ঔষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। প্রসূতি মায়েরা পাচ্ছেন আধুনিক চিকিৎসা। এই হাসপাতালেই গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ মাতৃত্বের ব্যবস্থা আছে। উপজেলা হাসপাতালটি এখন এক কথায় অত্যাধুনিক হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এর নেপথ্যে যে মানুষটির নিরলস পরিশ্রম কাজ করছে তিনি আর কেউ নন।
সকাল ৯ টায় অফিসে আসেন। বের হন ৪ টায়। তিনি ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এমন কাজ পাগল মানুষ অথবা চৌকস কর্মকর্তা ইতিপূর্বে দেখেনি আড়াইহাজার উপজেলাবাসী। তিনি এই অল্প সময়ে বদলে দিয়েছেন সরকারি এই হাসপাতারটিকে। সেবার মান বৃদ্ধি করেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন। শত কাজের মধ্যেও সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। সবার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালের ইতিহাসে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করেন উপজেলার সূধীমহল।
সংবাদে বিশেষভাবে যে কথা বলা হয়েছে তাহলো, আড়াইহাজার উপজেলার পাশেই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই সরকারি হাসপাতাল দেশের অন্য উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। হাসপাতালটি ঝকঝকে, তকতকে। সেবা নিয়েও এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট। তিনি যোগ দেয়ার ৭ মাসেই এই সরকারি হাসপাতালে পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সহায়তা পেলে দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালেও এই পরিবর্তন আনা সম্ভব। গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার বড় আশ্রয়স্থল উপজেলা হাসপাতাল। দেশে এ রকম হাসপাতাল আছে প্রতি উপজেলায় ১টি করে মোট ৪৯১টি। কিছু কিছু হাসপাতালে সীমানাপ্রাচীর নেই। কিছু হাসপাতালে প্রাচীর থাকলেও তা ভাঙা। হাসপাতালে গরু-ছাগল অবাধে যাতায়াত করে। দেয়ালে পানের পিক, চুনের দাগ চোখে পড়ে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ওয়ার্ডগুলোতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীর চিকিৎসা চলে। হাসপাতালজুড়ে উৎকট গন্ধ। সারা দিনে হয়তো একবার ঝাড়ু পড়ে ওয়ার্ডে। টয়লেটগুলো ভাঙা ও নোংরা থাকায় রোগী ও তাদের আত্মীয়রা সেগুলো ব্যবহার করতে চায় না। আড়াইহাজার উপজেলা হাসপাতালের চিত্র কিছুদিন আগেও এ রকম ছিল। এখন আমূল বদলে গেছে।
সংবাদের শেষে আরো তুলে ধরা হয় গুণীজনের মন্তব্য। আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ব্যাপক পরিবর্তনের নেপথ্যেও কারণ জানতে কথা হয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে যার ভূমিকা সর্বাগ্রে তিনি হলেন ডা. সায়মা আফরোজ ইভা। ৭ মাসের পরিশ্রম দিয়ে তিনি এই হাসপাতালটিকে পাল্টে দিয়েছেন। আড়াইহাজারের প্রায় ৩১৫টি গ্রামের সাধারণ দরিদ্র মানুষরা এখন এই হাসপাতালে স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসা নিতে আসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here