আশুরার হাকিকাত ও ফজিলাত

0
162

পীরজাদা মুহাম্মদ এমদাদুল্লাহ শাজলী ঃ অংক গণণার ১০ম সংখ্যাকে আরবীতে বলে আশারা। আশারা শব্দের বহুবচন হলো- আশুরা। জমহুর ওলামার মতে- মুহাররাম মাসের ১০ম দিবস ই হলো ”আশুরা দিবস”। সৃষ্টির সূচনা লগ্ন হতে ইসলামের ইতিহাসের বিশেষ ঘটনা প্রবাহ গুলোর সবই মুহাররাম মাসের ১০ম দিবসে সংঘটিত হয়েছিল বলে এ দিবসকে আশুরা দিবস বলে নামকরন করা হয়েছে। বিশেষত ৩১৩টি বড় ঘটনা সবই আশুরার দিনে সংঘটিত হয়েছিল বলে জানা যায়। তন্মধ্যে সামান্য কয়েকটি নি¤েœ তুলে ধরা হলো ঃ
এক:- আল্লাহর সৃষ্টির মহান রাজত্বের বিশাল এ দুনিয়া আশুরার দিনে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এতোবড় বিশাল সৃষ্টি বানাতে আল্লাহর কতটুকু সময় প্রয়োজন হয়েছে- পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত দ্বারা আমরা তা জানতে পারি। তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছে করেন, তিনি উহাকে বলেন, হও, ফলে তা হয়ে যায়। (সুরা ইয়াসিন, আয়াত ৮২)
দুই:- আদম (আ:) এর দেহাকৃতি খসখসে ঘাটি দ্বারা সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার পর আশুরার দিনে আদমের দেহে রূহ ফুঁৎকার করা হয়। তারপর তার সঙ্গিনী হাওয়াকে সৃষ্টি করেন। আল্লাহ বলেন- ”তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন ও তাঁর থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার নিকট শান্তি পায়। ”(সুরা আ’রাফ, আয়াত-১৮৯)।
তিন:- আদম ও হাওয়া (আ:) কে সৃষ্টির পর বেহেস্তে বসবাসের অনুমতি প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন “আমি বললাম- হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস কর।” (সুরা বাকারা,আয়াত-৩৫) যেদিন আদম ও তাঁর সঙ্গিনীকে বেহেস্তে বসবাসের অনুমতি দিয়েছিলেন সেটা ছিল আশুরার দিন।
চার:- প্রভুর প্রেমের খেলার গভীর রহস্যের ফলে আদম ও তার সঙ্গিনী হাওয়া (আ:) কে বেহেস্ত হতে দুনিয়ায় পাঠালেন। আল্লাহ বলেন “আমি বললাম, তোমরা সবাই এ স্থান হতে নেমে যাও।” (সুরা-বাকারা, আয়াত-৩৮) আদম ও হাওয়াকে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় নামিয়ে দেয়া হলো। কারো সঙ্গে কারো দেখা নেই। এ অবস্থায় তারা ৩৫০ বছর ধরে কান্না-কাটি, দোয়া-প্রার্থনা করলেন। অবশেষে আখেরী পয়গাম্বরের (সা:) কালেমার বরকতে প্রার্থনা কবুল হলো আশুরার দিনে। আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতের চুড়ায় সাক্ষাত হলো দুজনার।
পাঁচ:- আল্লাহর পাঠানো পয়গাম্বর নূহ (আ:) ৯৫০ বছর যাবত দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এ দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৪০ জন পুরুষ ও ৪০ জন নারী ইসলাম কবুল করেছেন। লোকেরা একদিকে তাঁর দাওয়াত গ্রহন করেনি অন্যদিকে তাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিয়েছে। তাদের অপবাদে ব্যথিত হয়ে নূহ বলেছেন, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করে।” (সুরা- মু’মিনুন, আয়ত-৩৯) একই ধরনের আরো একটি প্রার্থনা বাণী কুরআনে পাওয়া যায়। নূহ তখন তারঁ প্রতিপালককে আহবান করে বলেছিল, “আমিতো অসহায় অতএব, তুমি সাহায্য কর।” (সুরা-কামার, আয়াত-১০) ফলে, আল্লাহ শাস্তি হিসেবে কাওমে নুহের (আ:) প্রতি মহা প্লাবন দিলেন। যারা বিশ্বাসী তারা নুহ (আ:) এর নৌকায় আরোহন করল, যারা অবিশ্বাসী তারা মহা প্লাবনে ভেসে গেল। নৌকাতে তারা ১৫০ দিন অবস্থান করেন। আশুরার দিনে নৌকা জুদী পাহাড়ে এসে থামলে ঈমানদারগন নৌকা হতে বের হয়ে আসেন। আর সেদিন তারা আশুরার রোজাও রেখেছিলেন।
ছয়:- আল্লাহ তৎকালীন মাওলিস প্রদেশের নিভোনা নামক জায়গার অধিবাসীদের হেদায়াতের দাওয়াত দিবার জন্য ইউনুস (আ:) কে প্রেরন করেন। দাওয়াতের বিপরীতে তারা ইউনুস (আ:) কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং কুফুরী ও অবাধ্যতায় নিমগ্ন হয়। অসন্তুষ্ট হয়ে ইউনুছ তাঁর নিজ জনপথ ত্যাগ করে অন্যত্র রওয়ানা হলেন। সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য অন্যন্যদের সঙ্গে নৌকায় ওঠলেন। নৌকাটি কিছুক্ষন চলার পর যাত্রীদের নিয়ে উত্তাল তরঙ্গের কবলে পড়ল। নৌকাটি ঘুরপাক খেতে লাগল এবং ডুবুুডুবু অবস্থায় পতিত হলো। নাবিক ও যাত্রীরা লটারীর মাধ্যমে
পলাতক অপরাধীকে সনাক্ত করে নৌকা হতে ফেলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। লটারীতে আল্লাহর নবী ইউনুস (আ:) এর নাম উঠলো। সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী তাকে সাগরে ফেলো দিলো। তখন আল্লাহ তার জন্য সবুজ সাগর হতে একটা বিরাট মাছ প্রেরন করেন যা তাকে গিলে ফেলে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন “ইউনুস (আ:) ছিল রসুলদের একজন। স্বরন কর যখন সে পলায়ন করে বোঝাই নৌযানে পৌছল। তারপর সে লটারীতে যোগদান করল ও পরাভুত হল। পরে এক বিরাট মাছ তাকে গিলে ফেলল, তখন সে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগল।” (সুরা-সাফফাত আয়াত-১৩৯-৪২) মাছের প্রতি অহি হলো-ইউনুস (আ:) কে ধর, তবে তার শরীর জখম করবে না এবং তার হাড় ও ভাঙ্গবেনা। ইউনুস (আ:) মাছের পেটে ৪০ দিন থাকার পর আশুরার দিনে মাছ তাকে সাগরের কিনারায় ফেলে চলে যায় বলে উল্লেখ আছে।

সাত:- ইয়াকুব (আ:) এর ১২ জন পুত্র সন্তান ছিল। ভাইদের মধ্যে গুন গরিমায় ইউসুফ (আ:) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ট। তাই পিতা তাকে বেশি আদর ¯েœহ করতেন। এতে অন্য ১০ ভাইয়ের মনে হিংসার আগুন জ্বলে ওঠলো। তারা পরামর্শ করে ইউসুফ কে কুপে ফেলে দিল। যাতে পিতার পূর্ণ ¯েœহ মমতা কেবল তাদের প্রতি নিবদ্ধ থাকে। ইউসুফ এর জীবনের পট পরিবর্তন শুরু হলো। কখনো গোলাম হিসেবে বাজারে বিক্রী, কখনো কয়েদী, কখনো আজিজে মিশর সর্বশেষে নবুওয়্যাতি পেলেন ইউসুফ (আ:)।
আদরের সন্তান ইউসুফের জন্য দিবা-নিশি কেঁদে কেঁদে অন্ধ হয়ে গেলেন ইয়াকুব (আ:) । দীর্ঘ ২৪ বছরের দু:খ কষ্ট, ব্যাথা বেদনার অবসান হলো আশুরার দিনে। পিতা-ইয়াকুব (আ:) এর সঙ্গে পুত্র ইউসুফ (আ:) এর সাক্ষাত হলো মিশরের রাজ দরবারে। ইয়াকুব (আ:) ফিরে পেলেন তার হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি শক্তি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন- “অত:পর যখন সু-সংবাদ বাহক উপস্থিত হলো এবং তার মুখ মন্ডলের উপর জামাটি রাখল তখন সে দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেল।” (সূরা-ইউসুফ, আয়াত-৯৬)

আট:- আইউব (আ:) ছিলেন রুমের বাসিন্দা। তার মা লুত (আ:) এর কণ্যা। আইউব সেকালের একজন বড় ধনাঢ্য ব্যক্তি, সকল প্রকার সম্পদের অধিকারী, দাস-দাসী, বুছায়না এলাকায় বিশাল জমির মালিক এবং তার ছিল প্রচুর সন্তান ও পরিবার পরিজন। এক সময় আল্লাহ তার সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে নানা প্রকার দৈহিক রোগ-ব্যধি দ্বারা তাকে পরীক্ষায় ফেলেন। আপনজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই তাকে ফেলে চলে গেল। একমাত্র স্ত্রী বিবি রহিমা ছাড়া কেউ তার খবর রাখত না। ১৮ বছরের অসুস্থতায় দেহ হতে মাংস খসে পড়ে হাড় ও শিরা ব্যতিত কিছুই অবশিষ্ট ছিলনা। বিবি রহিমা পারিশ্রমিকের বিনীময়ে মানুষের কাজকর্ম করে আইউব (আ:) এর আহার্য ব্যবস্থা করতেন। লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলো মহিলাটি অসুস্থ আইউব এর স্ত্রী। তাই সংক্রমনের ভয়ে কেউ তাকে আর কাজে নেয় না। একদা স্ত্রী কোথাও কাজ খুঁেজ না পেয়ে অবশেষে জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কণ্যার কাছে খুব উন্নত মানের খাদ্যের বিনীময়ে নিজের চুলের ২টি বেনীর একটি বিক্রী করে দেন। পরের দিন ও স্ত্রী কাজ না পেয়ে চুলের অবশিষ্ট বেনীটিও খাদ্যের বিনীময়ে বিক্রী করে দেন। পর পর ২দিন উন্নত খাবার উপস্থাপনের পর আইউব (আ:) জানালেন কোথা হতে এতো ভাল খাবার সংগ্রহ করলে আল্লাহর কসম না জানা পর্যন্ত আমি খাদ্য গ্রহন করব না। তখন স্ত্রী অঝরে কাঁদতে শুরু করলেন এবং মাথা হতে ওড়না খুলে দেখালেন। এক দিকে জিহবায় পোকা ধরেছে তাই আল্লাহকে ডাকতে পারে না, অন্যদিকে স্ত্রীর মাথা মন্ডিত দেখে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, “হে আমার প্রতিপালক! আমি দু:খ কষ্টে পতিত হয়েছি। আর আপনি তো সকল দয়ালুদের শ্রেষ্ট দয়ালু।” (সূরা-আম্বিয়া, আয়াত-৮৩), মহান আল্লাহ আশুরার দিনে আইউব (আ:) এর দোয়া কবুল করলেন এবং নির্দেশ দিলেন- “তুমি তোমার পা দিয়ে ভ‚মিতে আঘাত কর, এইতো গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়।” (সুরা- সাদ, আয়াত-৪২)
পায়ের আঘাতে ভ‚মি হতে বেরিয়ে আসা পানি দ্বারা আইউব (আঃ) গোসল করলেন এবং পান করলেন । ঈমানী পরীক্ষার কামিয়াব হলেন, ফিরে পেলেন জীবন-যৌবন , ধন-সম্পদ সব কিছু।
নয়:- মিশরে ফেরাউন বংশীয় শাষক গোষ্ঠীর ১২০০ বছরের শোষণ, জুলুম , অত্যাচার, অবিচার ও নির্বিচারে জনপদ ও জনগন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছিল। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন- “নিশ্চয়ই দেশেতো ফেরাউন পরাক্রমশালী ছিল। সে ছিল স্বৈরাচারী, হঠকারী ও অন্যায় ভাবে দাম্ভিক ।” (সুরা ইউনুছ আয়াত: ৮৩) ঐ জনপদে মানুষের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা মুসা (আঃ) কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। ফেরাউন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ও মুসা (আঃ) কে নবী হিসেবে মেনে নেয়া তো দূরের কথা বরং মুসা (আঃ) ও মুসলমাদেরকে হত্যা করার ঘোষনা দিল। বাধ্য হয়ে মুসা ও তার অনুসারীগন পলায়নের চেষ্ঠা করল। কিছুদুর যাওয়ার পর বিশাল উত্তাল সাগরের সম্মুখীন হলেন। মুসা আল্লাহর সাহায্যে কামনা করলে লাঠির আঘাতে সাগরে ১২ টি পথ তৈরি হয়ে গেল। আল্লাহ বলেন “আমি মুসার প্রতি অহি করলাম
আপন লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর, ফলে তা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতের মতো হয়ে গেল।” “সুরা শু’আরা আয়াত-৬৩”
কুদরতী রাস্তা দিয়ে মুসা (আঃ) তাঁর অনুসারীগণ নদী পার হয়ে গেলেন। সাগরে ১২ টি সুবিশাল রাস্তা দেখে আনন্দে -উল্লাসিত হয়ে নেচে-গেয়ে ফেরাউন ও তার সৈন্যদল নদীর মাঝখানে গেলে আল্লাহর হুকুমে রাস্তা বিলুপ্ত হয়ে গেল। সমান হয়ে গেল নদীর পানি। ডুবে মরল ফেরাউন ও তার সৈন্য দল। মহান আল্লাহ বলেন- “ আমি উদ্ধার করলাম মুসা ও তার সঙ্গী সবাইকে । তারপর নিমজ্জিত করলাম অপর দলটিকে ।” (সুরা শু’আরা আয়াত-৬৫-৬৬)
১২ শত বছরের অত্যাচার , জুলুম , অবিচার, নির্বিচারের অবসান হয়ে ডুবে মরল ফেরাউন ও তাঁর দল, অন্যদিকে মুসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীগন নাজাত পেলেন আশুরার দিনে।
দশ:- ইতিহাসের ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। পিতা বিহীন পূত্রের জন্ম ¯্রষ্টার কুদরতের এক অন্যতম নিদর্শন। ফিলিস্তিনে বসবাসকারী ইমরান ও তার স্ত্রী হান্না ছিলেন নি:সন্তান। বৃদ্ধ বয়সে অন্যন্য নি:সন্তান দম্পত্তিদের মতো তারাও মান্নত করেছিলেন যদি একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয় তাহলে বাইতুল মাকদাসে উৎসর্গ করবেন। আল্লাহর কুদরতের মহিমা ইমরান দম্পত্তি বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভ করলেন। তবে পূত্র নয় কন্যা সন্তান। নবজাতক কন্যা মারিয়ামকে বাইতুল মাকদাসে খেদমতের জন্য উৎসর্গ করা হলো। তৎকালীন জামানার নবী,বাইতুল মোকাদ্দাসের ইমাম ও মরিয়ামের খালু জাকারিয়া (আ:) এর তত্বাবধানে লালিত পালিত হয়েছেন মরিয়াম। উপনীত বয়সে জিব্রাইল (আ:) কর্তৃক “ইসার (আ:) রুহকে ফুঁকে দিলেন ইমরান তনয়া মরিয়ামের গর্ভে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,“যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলাম।” (সুরা-তাহরীম, আয়াত-১২)
আল্লাহ প্রদত্ত সন্তানের সুসংবাদ পেয়ে মরিয়াম হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। “সে বলল, হে আমার প্রতিপালক আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি, আমার সন্তান হবে কিভাবে- তিনি বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন।” (সুরা-আল ইমরান, আয়াত-৪৭) যেদিন ইমরান তনয়া মরিয়ামের গর্ভে ইসা (আ:) এর রুহ ফুঁকে দেয়া হয়েছিল/ জন্ম হয়েছিল সেদিন আশুরার দিন ছিল বলে জানা যায়। তাছাড়া মহররাম মাসের ১০ তারিখ শুক্রবার আশুরার দিন দুনিয়া ধ্বংস হবে বলে হাদিছ দ্বারা প্রমানিত।

অন্যদিকে ৬১ হিজরী ৬৮০ খ্রীঃ ১০ ই মুহাররাম মহানবী (সাঃ) এর দৌহিত্র, আলী ও ফাতিমা (রাঃ ) কলিজার টুকরা , বেহেস্তের যুবকদের সর্দার ইমাম হোসাইন (রাঃ) সহ ঐ কাফেলার ৮২ জন নবী প্রেমিক, সত্যের সৈনিক , ইয়াজিদ সীমার বাহিনীর আক্রমনে পানি পানি করে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। চরম বিষাদপূর্ণ হলেও সত্যের পতাকাবাহী হুসাইনের (রাঃ) এ অপূর্ব আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনটিকে আরো ভাব গাম্ভীর্য পূর্ণ করেছে। তবে উম্মতে মুহাম্মদীর হৃদয়ে যে রক্তক্ষরন শুরু হয়েছে, তা চলবে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত।
আশুরার সাওমঃ রাসুল (সা:) এর নবুওয়্যাত প্রকাশিত হওয়ার পূর্বেও তিনি আশুরা বা ১০ই মুহারামের রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় গমন করে তিনি সেখানে ও আশুরার সাওম পালন করেছেন। বরং মদিনায় গিয়ে তিনি মুহাররামের ৯ তারিখকে ও আশুরার সঙ্গে শামিল করে নিয়েছিলেন। আশুরার সাওম পালনের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা:) ইরশাদ করেছেন, হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা:) বলেছেন:- রমজান মাসের সিয়াম পালনের পর সবচেয়ে ফজিলতের সিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররামের সিয়াম। (তিরমিজি)
আশুরার দিনে পানাহারের আয়োজনঃ আশুরার দিনে পানাহারের আয়োজনে উদার হস্ত হলে রিজিক প্রশস্ত হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে রাসুল পাক(সা:) ইরশাদ করেছেন- আশুরার দিন যে ব্যক্তি নিজ পরিবার বর্গের প্রতি (বেশী পরিমানে) খরচ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি (রিজিক) প্রশস্ত করবেন পূর্ণ বছর। (রাযীন ও বায়হকাী) তাই হাদিছের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার দিনে ২টি আমল গুরুত্বপূর্ণ।
একঃ মুহাররামের ৯ এবং ১০ তারিখে আশুরার রোজা পালন করা।
দুইঃ ঐ দিন নিজ পরিবারের প্রতি সাধ্যানুযায়ী বেশী পরিমানে কিছু ব্যয় করা।
আশুরার এ বরকতময় মাসে ও দিনে মুনিবের নিকট গোলামের একান্ত ফরিয়াদ ও আর্তি – তিনি যেন অক্ষম হস্তের এ লেখা কবুল করেন। আমাদের প্রতি অবিরাম দয়া বর্ষন করেন। নিরবিচ্ছিন্ন রহমতের চাদর দিয়ে ঢেকে রাখেন আমাদের কে আশুরা বরকতে কুদরতী বাতাস দিয়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন , লন্ড-বন্ড করে দেন পৃথিবীর অশান্ত বেড়া জালকে। রহমতের বৃষ্টি দিয়ে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেন করোনা তথা অন্যান্য সব মহামারী দুনিয়া হতে।আমিন!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here