করোণা যুদ্ধে জয়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী আনোয়ার হোসেন

0
423

বিশেষ প্রতিনিধি: মরণঘাতী করোণা ভাইরাস( কোভিড ১৯) মহামারী সংক্রমণে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে ও ঘরে বসে থাকার বিন্দুমাত্র সুযোগ হয়নি তার।ঢাকায় সন্তান সম্ভবা স্ত্রী এবং চার বছরের একমাত্র ছোট্র শিশু কন্যাকে বাসায় নিরাপত্তাহীন রেখে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী করোণা পরিস্থিতিতে দেশে যাতে খাদ্যের সংকট সৃস্টি না হয় এবং বর্তমানে খাদ্যোপদানের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনে ও অবিরাম কাজ করে গেছেন তিনি।

কৃষি বিভাগের জুন মাসে অফিসের কাজের চাপ এবং মাঠে সফলভাবে বোরো কর্তন,আউশ প্রণোদনা কর্মসূচীর বীজ ও সার বিতরণ, রাজস্ব ও বিভিন্ন প্রকল্পের আওতাধীন প্রদর্শনী,কৃষক প্রশিক্ষণ,মাঠদিবস বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক কাজ করে গেছেন তিনি।

তিনি উপজেলা করোণা মোকাবেলা ট্রাস্কফোর্স কমিটির সদস্য এবং ফতেপুর ইউনিয়ন ত্রাণ কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অত্যন্ত কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে।এতসব কাজের ভীড়ে ও চাপে হঠাৎ জ্বর,শুকনো কাশি ও শারীরিক দু্র্বলতা।

করোণা টেস্টে রেজাল্ট আসে পজিটিভ। পরিবারের কোন সদস্য কাছে নেই,পৌরসভার একটি ভাড়া বাসায় সম্পুর্ণ একাকী, বিভীষিকাময় করোনা জয়ের সংগ্রাম শুরু হয়।

এ বিষয়ে কাজী আনোয়ার জানান ,আমার পূর্বসূরি পিতৃতুল্য অভিভাবক আড়াইহাজার উপজেলার সাবেক উপজেলা কৃষি অফিসার বংগবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবদুল কাদির স্যার আড়াইহাহাজারের কৃষিকে এক অনন্য উচ্চতায় ও মর্যাদার আসনে নিয়ে গিয়েছিলেন,তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তাঁর দিক নির্দেশনা ও নির্দেশ এবং পরামর্শে দিনরাত কাজ করে গেছি।

দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকে নিজের শরীর, স্বাস্থ্য ও পরিবারের কথা না ভেবে বিভাগীয় ও করোনাকালীন জাতীয় দায়িত্বকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছি।দীর্ঘ ১৪ দিন আইসোলেশনে থেকে একাকী লড়াই করে মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি পরম করুনাময় আল্লাহর রহমতে।গত ৬ দ্বিতীয় করোনা টেস্টে ফলাফল নেগেটিভ আসে।

আমিনসহ আমার পরিবার,আত্নীয় স্বজন,কলিগ ও শুভাকাংগীগণ হাফ ছেড়ে বাঁচে। এ সুসংবাদের সাথে দ্বিতীয় সুসংবাদ ময়মনসিংহে একটি হাসপাতালে আমার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী ১৬-০৬-২০২০ তারিখে দ্বিতীয় কন্যা সন্তান জন্মদান করেন।কিন্তু করোনা আমাকে স্ত্রীর এ কঠিন সময় এবং নতুন অতিথির আগমনে স্বাগত জানাতে বাধা প্রদান করে।আমার কঠিন সময়ে যারা সার্বক্ষণিক খোজখবর রেখেছেন,বিভিন্ন সহযোগিতা করেছেন তাদের নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকিব।বিশেষ করে আমার পিতৃসম অভিভাবক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর,নারায়নগঞ্জ জেলার বর্তমান অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবদুল কাদির স্যার আমার সার্বক্ষণিক খোজখবর রেখেছেন,বিভাগীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেন চিকিৎসার ব্যাপারে খোজ খবর রাখাসহ বিভাগীয় কাজে দারুন ভাবে সহযোগিতা করে গেছেন। আমার বিভাগীয় উধ্বর্তন কর্মকর্তা উপপরিচালক স্যার,পরিচালক স্যার ফোনে স্বাস্থ্যোর খোজ নিয়েছেন,আমার অফিসের সকল কর্মকর্তা, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন এ মহামারীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার কাছে এসেছেন এবং বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর,নারায়নগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক,কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবদুল কাদির জানান য,উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী আনোয়ার ২৯ বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের একজন গর্বিত সদস্য, একজন বিচক্ষণ, দূরদর্শী, দৃঢ়চেতা ও লড়াকু মানসিকতা সম্পন্ন কর্মকর্তা।যেকোন প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও আবার ঘুরে দাঁড়াবার সক্ষমতা রাখেন।অনেক গর্ব করার মত তাঁর পারিবারিক জীবন। তাঁর সহধর্মিনী রুপালী আক্তার একজন উচ্চ শিক্ষিত , সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের  নারী।তিনি ঢাকাস্থ শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী অনুষদের সহকারী অধ্যাপক।তাঁদের বড় কন্যা কাজী নাফিসা তাবাসসুম , বয়স চার বৎসর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here