ক্ষতিগ্রস্থ অভিবাসী কর্মীদের পরিবারের জন্য বিশেষ “সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী” ঘোষণার দাবি ওকাপের

0
215

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমরা জানি কোভিড-১৯’ শুধুমাত্র স্বাস্থ্যঝুঁকি নয় দেশের কৃষক, শ্রমিক, হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের সকল মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের সংকট তৈরী করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহ করা, শ্রমিকের বেতন প্রদান, বিভিন্ন শিল্পের ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং কৃষির উতপাদন নিশ্চিত করতে ৯৬ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের আগামী তিন বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫০ লক্ষ মানুষের জন্য ‘রেশন কার্ড’ তৈরীর কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
নিয়মিত ও অনিয়মিত অভিবাসী মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি অভিবাসী কর্মী পৃথিবীর বিভিনড়ব দেশে কর্মরত। এই সকল অভিবাসী কর্মীর কষ্টার্জিত রেমিটেন্স (প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার) বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উনড়বয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি। ‘কোভিড-১৯’ এর চলমান বৈশি^ক মহামারির কারনে অধিকাংশ অভিবাসী কর্মী আজ ক্ষতিগ্রস্ত । আশঙ্কা করা হচ্ছে ‘কোভিড-১৯’ এর কারনে সৃষ্ট বৈশি^ক মন্দার কারনে বিভিনড়ব দেশে থেকে কয়েক লক্ষ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হবে।

অন্যদিকে চলমান মহামারির কারনে বিদেশে অবস্থানরত অভিবাসী কর্মী অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে অথবা বেতন পাচ্ছে না। বিগত একমাসে ওকাপ পরিচালিত হেল্পলাইন ‘ডাটাবেজ’ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বিদেশে অবস্থানরত অভিবাসী কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ চলমান “লকডাউন” পরিস্থিতিতে কাজ না থাকা বা বেতন না পাওয়ার কারনে নিজেরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে টাকা না পাঠানোর কারনে এই সকল অভিবাসী কর্মীর প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধহারে বা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অনেকে বিভিন্ন অসুস্থতায় ওষুধ কিনতে না পেরে আরো বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এই সকল অভিবাসী কর্মী বা পরিবারগুলো সামাজিক অবস্থানের কারনে সরকারি বা বেসরকারিভাবে পরিচালিত কোন খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করতে পারছে না। আবার হতদরিদ্র বা নিম্ন আয়ের মানুষের দলে না পড়ার কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫০ লক্ষ মানুষের জন্য ‘রেশন কার্ড’ এর যে তালিকা তৈরী হচ্ছে তা থেকেও তাদেরকে বাদ দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় এই সকল ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মী এবং পরিবারগুলোর কি হবে?
অভিবাসী কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত রেমিটেন্স আমাদের এই দেশ বিনির্মানে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখছে। কাজেই বিদেশ ফেরত ক্ষতিগ্রস্থ অভিবাসী কর্মী এবং বিদেশে অবস্থানরত অভিবাসী কর্মীর অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আজ সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
এই অবস্থায় বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের নিয়ে গঠিত তৃণমূল সংগঠন ওকাপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিদেশ ফেরত ক্ষতিগ্রস্থ অভিবাসী কর্মী এবং বিদেশে অবস্থানরত ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মীর পরিবারের জন্য বিশেষ “সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী” ঘোষণার জোর দাবি জানাই। আমরা ’বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রালয়’ বরাবর বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় প্রথম সারিতে থাকা অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য “সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী” প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য অতিদ্রæত উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here