গৌরবের সাথে একযুগে পদার্পন করলো গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজ

0
474

মাসুম বিল্লাহ : সুবিশাল ক্যাম্পাস। মনোরম পরিবেশ। ভেতরে ঢুকলেই মন জুড়িয়ে যায়। ঢাকার যে কোন আধুনিক কলেজও ম্লান মনে হবে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উপজেলায় ফার্স্ট এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ে অবস্থান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলেছে গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজ। সৌন্দর্য্য, মনোরম পরিবেশ ও কৃতিত্বের মধ্যে একযুগে পদার্পন করলো উচ্চ শিক্ষার এই পীঠস্থানটি। গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজ যেনো কলেজ থেকেও বেশি কিছু। গোপালদীবাসীর চার দশকের বঞ্চনার ইতিহাস মুছে দিয়ে যেনো নতুন ইতিহাস রচনা করতে চলেছে এই কলেজটি। গোপালদীবাসী এই কলেজকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছে। এই অঞ্চলের মানুষ এখন ভাবতে শুরু করেছে আজকের নজরুল ইসলাম বাবু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নিবে। এত সুন্দর কলেজ পাবে গোপালদীবাসী ভাবতেও পারেননি।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু

এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু গোপালদীবাসীর সেই অভাব, একটি কলেজ এর আকাঙ্খা পূরণ করেছেন। গোপালদীবাজার এলাকা ও আশপাশ এলাকার মানুষ চিরকৃতজ্ঞ এমপি বাবুর প্রতি। এমপি নজরুল ইসলাম বাবু আসলে একজন স্বপ্ন পূরণের সারথি-এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করনে জাকির হোসেন মোল্লা নামের একজন বিজ্ঞ ব্যবসায়ী। যিনি গোপালদী বণিক সমিতির সভাপতি। তিনি বলেন, এমপি বাবু সাহেব এর মত এমন জনপ্রতিনিধি শতবর্ষে একজন আসে। আমাদের সৌভাগ্য আমরা তাঁর মত একজন বড় মাপের মানুষকে পেয়েছি। দেখুন আমাদের প্রজন্মের লোকজন অনেক দূর-দূরান্তের কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। আমরা একটি কলেজ চাইছিলাম। চল্লিশটি বছর গেছে স্বাধীনতার। কত এমপি নেতা গেছেন। কেউই একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে যেতে পারেননি গোপালদীতে। বাবু ভাইকে আমরা এই দুঃখের বিষয়টি জানাতে তিনি রীতিমত জাদু দেখালেন। ২০১০ সালের মে-জুন মাসে প্রতিষ্ঠা করলেন গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজ।
ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা কলেজ এর সভাপতি। তিনি নিজেই এক বিশাল দায়িত্ব পালন করেন আড়াইহাজার উপজেলা সদরে। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানের দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে আবার কলেজের খোঁজ খবরও নেন। তিনি জানান, গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজই একমাত্র যেখানে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর রাখেন। পড়াশোনা বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। কমিটির সদস্যরাও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজ নেন। অধ্যক্ষ ও নিজে ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যার কথা শুনে ওই বিষয়ের শিক্ষককে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এটাই এই কলেজ এর ভাল ফলাফলের গোপন রহস্য।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হাসান

অধ্যক্ষ আলমগীর হাসান, ২০১০ইং সালে ৮ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমীক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে ১২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজ চালু হলে চারিদিকে খুশির বন্যা ও এলাকাবাসীর মুখে তৃপ্তির হাসি বয়ে যায়। বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শিক্ষার্থীদের সামনে খুলে যায় শিক্ষার দুয়ার। কোলাহল মুক্ত মনোরম পরিবেশে শুরু শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত। বর্তমানে ২০০০ হাজার শিক্ষার্থী ও ২২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে কলেজটির একাডেমীক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার মান যাচাই করার জন্য আমরা ক্লাস, সাপ্তাহিক, মাসিক পরীক্ষাসহ ইনকোর্স, সাময়িক পরীক্ষার ব্যবস্থা করে থাকি। আজকের এই কলেজটি অদূর ভবিষ্যতে একটি অপ্রতিদ্ব›িদ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা রাখবে এটি আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।
জানাগেছে, কলেজ ক্যাম্পাসটি অত্র অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ক্যাম্পাস। আলপনা ও সবুজে ঘেরা চারিপাশ। মেইন গেইট দিয়ে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জেনারেল শাখায় অংশ নিয়েছে মোট ৬৪১ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছে ৬৪০ জন। কারিগরী শাখায় ১০২ জন অংশ নিয়ে সকলেই পাশ করেছে। এ প্লাস পেয়েছে ৭০ জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৫৫ জন, মানবিক ৯ জন ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৯ জন এ প্লাস পেয়েছে। গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে ৯ জন।
২০১২ সালে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৮০ জন পরিক্ষার্থী। ফলাফল চমকে দেওয়ার মত। প্রথম পরীক্ষায়ই ৩ জন জিপিএ-৫ সহ শতকরা শতভাগ পাশ করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি কলেজটির। সেই কৃতিত্ব বুকে ধারণ করে ২০১৩ সালে ২৩ জন জিপিএ-৫ সহ ৯৯.১৭% পাশ করেন। যথাক্রমে ২০১৪ সালে ৩৩ জন জিপিএ-৫ সহ ৯৯.৩৩%, ২০১৫ সালে ১২ জন জিপিএ-৫ সহ ৯৯.২৫% এবং ২০১৬ সালের ফলাফলে ৭ জন জিপিএ-৫ সহ ৯৮.৭০% পাশ করার গৌরব অর্জন করেছিল।
ফলাফলের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই কৃতিত্বকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা সবার। আগামীতে ফলাফল আরও ভাল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কলেজের সমৃদ্ধশালী একটি কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। যেখানে ২১টি কম্পিউটার ও ৩টি ল্যাপটপ রয়েছে। আইসিটিতে নতুন প্রজন্মকে আরও দক্ষ করে তুলতে ল্যাবটি বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করেন আইসিটি প্রভাষক রকিবুল হাসান ।
বাংলা প্রভাষক কৃষœপদ মন্ডল জানান, এলাকাটি ব্যবসা বানিজ্যে সমৃদ্ধ। এই জন্য আমরা কলেজে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের উপস্থিতি বেশি দেখি। এছাড়া রেজাল্টেও বালকদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বালিকারা এগিয়ে।
কলেজের ইংরেজী প্রভাষক সুমা বেগম বলেন, আমরা সাবলীল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা পাশের জন্য পড়াশোনা না করে, শিক্ষাটা যেন তাদের নিত্য দিনে কাজে লাগে তা গ্রহণ করুক। আর আমরা সেই ভাবেই তাদেরকে শিক্ষা প্রদান করে যাচ্ছি এবং মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে তুলতে সহায়তা করছি। কলেজটি শুধু জেলা পর্যায়ে নয় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যেন সবাই জানে শুনে এবং চিনে আমরা সেই পথেই হাটছি এবং আশা ব্যক্ত করি তা অতিক্রম করতে পারবো।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মুরাদ হোসেন ভুইয়া জানায়, শিক্ষর্থীরা অনুপস্থিত থাকলে আমরা সরাসরি অভিভাবকদের সাথে আলাপ করি। সারা বছরই আমরা হোম ভিজিটের ব্যবস্থা রাখি। এছাড়া হোম ভিজিট ব্যবস্থাটা আমরা অভিভাবক মহলের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাই। এতে আমরা-শিক্ষার্থীরা-অভিভাবকরা এক বৃত্তে অবস্থান করি। এতে সবার সমস্যার সমাধান খুব সুন্দরভাবে হয়ে যায়।
অভিভাবকরা জানায়, দূর দূরান্তে কলেজ থাকায় আমরা মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকতাম। মেয়েকে একা দূরের কোন কলেজে পাঠিয়ে বাড়িতে স্বস্তিতে বসে থাকতে পারিনি। কিন্তু এমপি সাহেব কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের কোন বাধা রইলনা। এ জন্য এলাকায় বাল্য বিয়ের হার আজ অনেক খানি কমে গেছে। এলাকাবাসীরা আশা ব্যক্ত করেন, একদিন তাদের সন্তানরা এই কলেজ থেকেই অনার্স মাস্টারস পাশ করে সবাই মুখ উজ্জ্বল করবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভা ঐতিহ্যবাহী ও ব্যবসা বানিজ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এলাকা। এই পৌরসভায় উচ্চ শিক্ষার জন্য কোন কলেজ না থাকায় এখানকার শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে উপজেলা সদর, ঢাকা, মাধবদী-নরসিংদীসহ বিভিন্ন দূর দূরান্তে গিয়ে লেখাপড়া করতে হতো। তাই স্থানীয় জনগণের একটি আধুনিক কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার চার দশক পর গোপালদীতে ১২৩ শতাংশ জমি ভরাট করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজ। এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু এই অসাধ্য সাধন করে এ অঞ্চলের মানুষের অন্তরে একজন মহান নেতা হিসেবেই চিরদিন বেঁচে থাকবেন।
প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু শপথ নিয়েছিলেন ‘আড়াইহাজারের উন্নয়নে হবে না কমতি, শিক্ষার রাখবো না ঘাটতি’। আর তাঁর সেই শপথই দিনকে দিন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আনন্দের জোয়ারে ভাসছে পুরো গোপালদী। সন্তানরা পরীক্ষায় পাস করেছে সেই আনন্দে বাবা-মাসহ পরিবারের মানুষদের মুখেও ফুটে উঠেছে হাসি। আর এই হাসি ফুটানোর পেছনে অন্যতম কৃতিত্ব সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুর এমনটাই বলছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here