তিনি হাসপাতালটি বদলে দিয়েছেন

0
446

মাসুম বিল্লাহ :কাজে যোগ দিয়েছেন ৭ মাস। এই ৭ মাসে ১ দিনও ছুটি কাটাননি। সকাল ৯ টায় অফিসে আসেন। বের হন ৪ টায়। তিনি ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এমন কাজ পাগল মানুষ অথবা চৌকস কর্মকর্তা ইতিপূর্বে দেখেনি আড়াইহাজার উপজেলাবাসী। তিনি এই অল্প সময়ে বদলে দিয়েছেন সরকারি এই হাসপাতারটিকে। সেবার মান বৃদ্ধি করেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন। শত কাজের মধ্যেও সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। সবার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আড়াইহাজার সরকারি হাসপাতালের ইতিহাসে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করেন উপজেলার সূধীমহল।
আড়াইহাজার উপজেলার পাশেই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই সরকারি হাসপাতাল দেশের অন্য উপজেলা হাসপাতাল থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। হাসপাতালটি ঝকঝকে, তকতকে। সেবা নিয়েও এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট। গত ৭ মাসে এই সরকারি হাসপাতালে পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সহায়তা পেলে দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালেও এই পরিবর্তন আনা সম্ভব। গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার বড় আশ্রয়স্থল উপজেলা হাসপাতাল। দেশে এ রকম হাসপাতাল আছে প্রতি উপজেলায় ১টি করে মোট ৪৯১টি। কিছু কিছু হাসপাতালে সীমানাপ্রাচীর নেই। কিছু হাসপাতালে প্রাচীর থাকলেও তা ভাঙা। হাসপাতালে গরু-ছাগল অবাধে যাতায়াত করে। দেয়ালে পানের পিক, চুনের দাগ চোখে পড়ে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ওয়ার্ডগুলোতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীর চিকিৎসা চলে। হাসপাতালজুড়ে উৎকট গন্ধ। সারা দিনে হয়তো একবার ঝাড়ু পড়ে ওয়ার্ডে। টয়লেটগুলো ভাঙা ও নোংরা থাকায় রোগী ও তাদের আত্মীয়রা সেগুলো ব্যবহার করতে চায় না। আড়াইহাজার উপজেলা হাসপাতালের চিত্র কিছুদিন আগেও এ রকম ছিল। এখন আমূল বদলে গেছে।
গত ২২ জুলাই হাসপাতাল ফটক দিয়ে ঢোকার সময় একজন প্রহরী চোখে পড়ে। তিনি রিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সবুজ চত্বর ও ফুলবাগানও চোখে পড়ে। হাসপাতালের ভেতরে অন্য কোথাও গাড়ি বা যানবাহন রাখা নিষেধ। পুরো হাসপাতাল ঝকঝকে-তকতকে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার তাঁরা হাসপাতাল ঝাড়ু দেন, টয়লেট পরিষ্কার করেন।
একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। আঞ্জুমান বেগম বলেন, ‘মাস ছয়েক আগে ডায়রিয়ার কারণে ভর্তি হয়েছিলাম। এবার অসুস্থ হওয়ার পর এসে দেখি হাসপাতাল পাল্টে গেছে। হাসপাতাল নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে। বাথরুম পরিষ্কার। অনেক স্বস্তিতে আছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here