পুলিশ ঘাতক রিপনকে খুঁজছে হন্যে হয়ে

0
420

বিশেষ প্রতিনিধি :শিল্পী মনেপ্রাণে ভালবাসতো রিপনকে। সেই ভালবাসাকে শারীরিক চাহিদা মনে করে পরকীয়ায় মেতে থাকতো রিপন। ভাবতো শরীরের চাহিদা মেটাতেই শিল্পী বারবার রিপনকে আহবান করে। রিপন পরকীয়ায় মেতে শিল্পীর দেহ ভোগ করতো। শেষ পর্যন্ত এই পরকীয়া গোপন থাকেনি গ্রামে। ফাঁস হওয়ায় এবং এ ঘটনা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতেই রিপন দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয় শিল্পীকে। তাছাড়াও শিল্পির সাথে পরকীয়ার ধরা পড়ায় শিল্পীর শ্বশুর বাড়ির লোকজন রিপনকে যে অপমান করেছে তার প্রতিশোধ নেওয়াটা ও কাজ করেছে রিপনের মনে।

প্রেমের নামে নৃশংস এই হত্যাকান্ডে রিপনসহ অংশ নিয়েছিল ৪/৫ জন। এমন তথ্য পুলিশের। রহস্য উদঘাটনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে পুলিশ। এই মামলার অন্যতম আসামী আউয়ালের সাথে রিপনের মোবাইলে কথোপকথনের  রেকর্ড (মোবাইল টেপ) পেয়েছে পুলিশ। এখন মূলঘাতক রিপন গ্রেফতার হলেই চাঞ্চল্যকর শিল্পী হত্যার রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত হবে। পুলিশের তদন্তে ইতিমধ্যেই হত্যাকান্ডের মোটিভ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন এসআই শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, শিল্পী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে ২ আসামী। এরা হলো আব্দুল আউয়াল ও মো: হান্নান। দু’জনকেই একজন আউয়ালকে ১৭ জুলাই রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আর হান্নান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জনানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। গ্রেফতারকৃত আসামী আউয়ালও ছিল শিল্পীর প্রেমিক। আউয়াল দূর সম্পর্কের বেয়াই ছিল শিল্পীর। বিয়ের আগে শিল্পীর সাথে তার সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর সে এসব মনে রাখেনি। ঘাতক রিপনের সাথে শিল্পীর প্রেম হয় বিয়ের পর। মূল ঘাতক রিপন গ্রেফতার হলে শিল্পী হত্যাকান্ডের বিস্তারিত জানাযাবে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আশা প্রকাশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শফিকুল ইসলাম ।
মো: হান্নান। পেশায় সিএনজিচালক। এই মামলায় সেও অন্যতম আসামী। হত্যাকান্ডে সেও নিজেকে জড়িয়েছে। হান্নানের সিএনজি দিয়েই শিল্পীর লাশ ফেলে দিয়ে এসেছিল ঘাতক রিপন। যদিও হান্নান এখন পুলিশকে বলছে সে হত্যাকান্ডের কথা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। আদলতে হান্নান বলেছে, মনোহরদীর গিয়াসউদ্দিন ডাক্তারের বাড়ির সামনে থেকে ৩/৪ জন লোক একজন অসুস্থ রোগীকে সত্যভান্দি নেয়ার জন্য। দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। আমি দ্রুত সিএনজি স্টার্ট করি। ওরা সত্যভান্দি গ্রামে একটি বাড়ির সামনে সিএনজি থেকে নেমে সেই রোগীকে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। তখন আমার মনে সন্দেহ হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন বুঝতে পারে ওখানে একটা কিছু ফেলে দিয়ে গেছে কিছু লোক। আমরা সিএনজি নিয়ে সেখান থেকে একটু দূরে চলে আসি।  লোকজন চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ওরা সেই রোগী নামক লাশটি নিয়ে আরেকটি বাড়ির সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়। এভাবেই আমি ফেঁসে যাই। ঘাতক রিপন লাশটি শিল্পীর চাচা শ্বশুরের সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে দিয়ে গা ঢাকা দেয়।

শিল্পীর দু’টি এতিম সন্তান এখন দাদা-দাদীর কাছেই আছে। পুলিশ এখন ঘাতক রিপনকে খুঁজছে হন্যে হয়ে। রিপন ধরা পড়লেই রহস্যের শেষ অংশটুকু জানাযাবে। পুলিশ শীঘ্রই রিপনকে পাকরাও করতে পারবে বলে জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here