ভাঙ্গছে রাস্তা, মরছে মানুষ, পঙ্গু হচ্ছে অনেকে

0
367

মাসুম বিল্লাহ : অবৈধ যানবাহনের দাপটে অতিষ্ঠ আড়াইহাজারবাসী। সহস্্রাধিক নসিমন ও বালুবাহী ট্রাক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২ টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়ন। দ্রুত গতিতে চলাচলকারী এসব অবৈধ যানবাহনের ব্রেক সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল। যার দরুণ প্রায়শ ঘটছে দূর্ঘটনা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ৩০০ লোক। মারা গেছে ১০০ জন গ্রামবাসী। পঙ্গুত্ব বরণকারী লোকজনের জীবনে অভিশাপের আরেক নাম নসিমন। অতিরিক্ত মালামাল বহন করার কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামের রাস্তাঘাট। যে কোন রাস্তা সংস্কারের ছয় মাসের মধ্যে পিচ উঠে যায় নসিমনের কারণে। আড়াইহাজার উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের সূত্রমতে, প্রতিদিন হাসপাতালে অন্তত ৩/৪ জন রোগী আসে নসিমনের ধাক্কায় আহত হয়ে। এদের মধ্যে অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে যায়। অবস্থা খারাপ হলে পঙ্গু রেফার করা হয়। প্রায়শ হাত-পা ভাঙ্গা রোগী আসে। মাঝে মধ্যে ঘটে যায় হৃদয় বিদারক ঘটনা। নসিমনের ধাক্কায় অনেক শিশু মারা যায়। স্কুলে যাওয়ার পথে কিম্বা বাড়ির পাশে রাস্তায় নসিমনের চাপায় অনেক শিশুর অপমৃত্যু ঘটে। অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে। তবুও বন্ধ হয়নি ভয়ংকর নসিমন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় কল্যান্দীতে নসিমনের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মারা যায় তিন বছরের শিশু তানহা। শিশুটি রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিল। অতিরিক্ত মালবাহি নসিমনটি শিশু তানহার উপরে উঠে যায়। চালক কিছুতেই নসিমনটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি অতিরিক্ত মাল বোঝাই থাকায়। ১৫ দিন আগে বালুবাহি ট্রাক চাপায় পা ভেঙ্গে যায় রামচন্দ্রদীর হযরত আলীর। এত অঘটনের পরও থামছেনা অবৈধ নসিমনের দাপট।
জেলার ট্রাফিক পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে দু’টি মহাসড়ক চলে গেছে। একটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অন্যটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিদ্ধিরগঞ্জ দিয়ে কাঁচপুর-সোনারগাঁও দিয়ে চলে গেছে। অপরদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক কাঁচপুর হয়ে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার দিয়ে চলে গেছে। ফলে আড়াইহাজার অংশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক, অটোবাইক, নসিমন, করিমন, ট্রলি অবৈধ যানবাহনে সয়লাব। অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে বেড়ে গেছে দুর্ঘটনা। এদিকে, মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক, অটোবাইক, নসিমন, করিমনসহ অবৈধ যানবাহনে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অধিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানমালের। মাঝে মধ্যে সড়কে গাড়ি উল্টে পড়ে গাড়িসহ মালামাল ও জীবনের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। দিন দিন নসিমন করিমন ও ট্রলির সংখ্যা বেড়েই চলছে। কোনো সিগনাল ছাড়াই যত্রতত্র যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে মালামাল ওঠা-নামা করে থাকে। রাস্তার ওপর গাড়ি ফেলে রেখে যানজটের সৃষ্টি করে। অদক্ষ চালকরা গাড়ি চালানোর কারণে যত্রতত্র সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো প্রকার ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ নেই। অনেক নাবালক চালক একটি ইজিবাইক ক্রয় করে রাস্তায় যাত্রী পরিবহন করছে। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা। এ কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়িচালক ও যাত্রী বা পথিকের। এসব অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের বাইরে তিনটি থানায় রয়েছে অবৈধ নসিমন ও ট্রলির রমারমা ব্যবসা। বিভিন্ন সাইজের স্যালো মেশিনের ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব অবৈধ গাড়ি। আইনের কোনো বালাই না থাকায় ইটভাটাসহ নানা কোম্পানির ডিলাররা অবৈধভাবে এসব গাড়ি বানিয়ে ব্যবসা করছেন। এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। এগুলোর সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে ইজিবাইক। রাস্তায় এলোমেলো ভাবে চালানোর কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো জায়গা না থাকায় ফুটপাত দখল করে রয়েছে। এতে করে সাধারণ পাথচারীরা পড়ছেন বিপাকে। পথচারীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, নসিমন ও ট্রলি একটি মরণ ফাঁদ। এসব অবৈধ গাড়ি বন্ধ করা উচিত।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ অবৈধ যান চলাচলের বৈধতা নিয়ে একাধিকবার বৈঠক বসানো হয়েছে। কিন্তু যথাযথ কতৃর্পক্ষ বিভিন্ন রুটে এ অবৈধ যান চলাচলের বিষয়টি নিয়ে কোন সুরহা করতে পারিনি। ফলে স্ব-স্ব অঞ্চলের এসব অযোগ্য অদক্ষ চালকরা সম্পূণর্ অবৈধভাবে এই স্যালো ইঞ্জিন চালিত যন্ত্র দানবকে বৈধ করে নিয়ে বহাল তবিয়তে উপজেলার বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। বিভিন্ন রুট দিয়ে অহরহ যাত্রীর পাশাপাশি, কাঁচামাল, ধান, চাল, বাঁশ, কাঠ এবং গবাদি পশু বহন করে চলেছে এই যান। স্থানীয় প্রযুক্তিতে স্যালো ইঞ্জিন দ্বারা তৈরি এসব নছিমন, আড়াইহাজারের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন বহন করে চলেছে হাজার হাজার যাত্রী। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও প্রয়োজনের তাগিদে যন্ত্রদানব নামে এসকল যানবাহনটিতে উঠছে যাত্রী সাধারণ। করিমন ৮-১০ জন এবং নছিমন ১২-১৫ জন যাত্রী বহন করে। যার নেই রুট পারমিট ফিটনেস সনদ বা চালকের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। নেই জরুরী অবস্থায় নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। চালকের অদক্ষতার কারণে হরহামেশায় ঘটছে দুঘর্টনা, মরছে সাধারণ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here